বরিশালে ৭ শিয়াল হত্যা, মাংস খেয়ে বিক্রির পোস্টে তোলপাড়

বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায় হাঁস-মুরগি খেয়ে ফেলার অভিযোগ তুলে সাতটি শিয়াল ধরে জবাই করার পর তাদের মাংস রান্না করে খাওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের পাশাপাশি পশুপ্রেমী ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
জানা গেছে, শিয়াল হত্যার পর ‘নাইম রাজ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে জবাই করা শিয়ালের ছবি দিয়ে মাংস বিক্রির একটি পোস্ট দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল ময়দানখোলা এলাকার একটি জঙ্গলে গিয়ে শিয়ালের আস্তানায় হানা দেয়। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে শিয়ালগুলো পালানোর চেষ্টা করলে টেঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে সাতটি শিয়াল ধরে ফেলা হয়। পরে সেগুলো স্থানীয় বাজারে নিয়ে জবাই করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন রাতেই শিয়ালের মাংস রান্না করে রুটি-পিঠার সঙ্গে খাওয়া হয়। পরে মাংস বিক্রির জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল বলছে, শিয়াল বন্যপ্রাণী হওয়ায় এটি হত্যা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণী হত্যা ও এর মাংস বিক্রির প্রচারণা দেশের প্রচলিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের লঙ্ঘন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী শিয়াল হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে লোক পাঠানো হয়েছে।





