ডায়াবেটিস থাকলে যে পাঁচ ধরনের মাছ খাওয়া ক্ষতিকর

ডায়াবেটিস থাকলে খাবারের তালিকা নিয়ে সচেতন থাকতে হয়। অনেকেই ভাবেন, মাছ খাওয়া উচিত কি না। পুষ্টিবিদদের মতে, বেশির ভাগ মাছই ডায়াবেটিসে নিরাপদ এবং উপকারী। কারণ মাছে থাকে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও খনিজ, যা হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে সব ধরনের মাছ একই রকম নয়। কিছু বড় সামুদ্রিক মাছ, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাছ বা নির্দিষ্ট পরিবেশে চাষ করা মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
কিং ম্যাকারেল
কিং ম্যাকারেল একটি বড় সামুদ্রিক মাছ। এতে পুষ্টিগুণ থাকলেও পারদের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে এই মাছ খেলে শরীরে পারদ জমার ঝুঁকি বাড়ে। তাই ডায়াবেটিসসহ সবারই এটি সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
বড় আকারের টুনা মাছ
টুনা মাছ প্রোটিন ও ওমেগা-৩-এর ভালো উৎস। তবে বড় আকারের কিছু টুনা প্রজাতিতে পারদের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। তাই নিয়মিত বেশি পরিমাণে না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। ক্যানজাত টুনা কিনলে অতিরিক্ত লবণ বা তেল রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া উচিত।
তেলাপিয়া
তেলাপিয়া সহজলভ্য ও জনপ্রিয় মাছ। এটি প্রোটিনের ভালো উৎস হলেও এতে ওমেগা-৩-এর তুলনায় ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি থাকে। তাই শুধু তেলাপিয়ার ওপর নির্ভর না করে রুই, কাতলা, ইলিশ বা সামুদ্রিক ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছও খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। পাশাপাশি মাছটি পরিষ্কার ও নিরাপদ পরিবেশে চাষ করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
স্মোকড বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাছ
স্মোকড, লবণযুক্ত বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাছ অনেক সময় সোডিয়াম বেশি থাকে। ডায়াবেটিসে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকায় এসব খাবার সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
ছোট চিংড়ি
চিংড়ি পুষ্টিকর হলেও অনেক সময় অতিরিক্ত তেল বা মসলা দিয়ে রান্না করা হয়, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো নয়। এছাড়া চাষের পরিবেশ ভালো না হলে কিছু দূষকের ঝুঁকিও থাকতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা চিংড়ি খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
ডায়াবেটিসে মাছ খাওয়ার সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেন
- সপ্তাহে অন্তত দুই দিন মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন।
- ভাজা মাছের বদলে সেদ্ধ, ঝোল, গ্রিল বা বেক করা মাছ বেছে নিন।
- বড় সামুদ্রিক মাছ নিয়মিত না খেয়ে বিভিন্ন ধরনের মাছ পালাক্রমে খান।
- ক্যানজাত বা প্রক্রিয়াজাত মাছ কিনলে লবণ ও অন্যান্য উপাদানের পরিমাণ দেখে নিন।
- সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি।
ডায়াবেটিস থাকলেই মাছ খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক মাছ নির্বাচন, পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করলে মাছ একটি পুষ্টিকর ও উপকারী খাবার হিসেবেই খাদ্যতালিকায় রাখা যায়।
সূত্র: নিউজ বাংলা ১৮




