আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিয়ে ফিফার স্বচ্ছতা নিয়ে মিশরের কড়া বার্তা

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মাঠের রেফারিং এবং ভিএআর প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। ফিফার এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে শতভাগ সততা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কড়া বার্তা দিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আটলান্টায় অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয়ভাবে হেরে বিদায় নেয় মিশর। ম্যাচ শেষে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইএফএ স্পষ্ট জানিয়েছে, মাঠের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা কোনোভাবেই চুপ থাকবে না।
উত্তেজনাপূর্ণ ওই ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে প্রথমে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর। তবে শেষ পর্যন্ত তারা ৩-২ গোলে হেরে আসর থেকে ছিটকে যায়। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনার হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন। এই গোলের মাধ্যমেই ল্যাটিন আমেরিকার দলটি কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে এবং মিশরের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন ভেস্তে যায়।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিদের ভূমিকা এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির ভুল ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ইএফএ-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ম্যাচের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ওই সিদ্ধান্তগুলোর নিরপেক্ষতা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর।
সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে, কেবল তারাই নয়, দেশ ও বিদেশের বহু ফুটবল বিশ্লেষক এবং বিশেষজ্ঞও মাঠের ওই বিতর্কিত রেফারিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের মতো এত বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে সর্বোচ্চ মানের স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিত করা এখন ফিফার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, মিশরীয় ফুটবল সবসময়ই খেলার নিয়মকানুন, ফেয়ার প্লে এবং ক্রীড়াসুলভ মনোভাবকে সম্মান জানিয়ে এসেছে। ঠিক একইভাবে তারা ফিফার কাছ থেকেও প্রত্যাশা করে যেন প্রতিটি দল মাঠে সমান সুযোগ পায়। ফুটবলের সকল আইন যেন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হয়।
ইএফএ স্পষ্ট করেছে, মাঠের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে দলের ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং কোটি কোটি ভক্ত-সমর্থকদের মনে তীব্র হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসরে তারা আরও উন্নত ও পেশাদার মানের অফিশিয়েটিং বা ম্যাচ পরিচালনা আশা করেছিলেন।
বিবৃতির একেবারে শেষ অংশে মিশরীয় বোর্ড জানায়, নিজেদের জাতীয় দলের অধিকার এবং স্বার্থ রক্ষা করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। এই বিষয়টি কোনোভাবে হালকা করে নেওয়ার সুযোগ নেই। মিশরের জার্সি গায়ে লড়াই করা প্রতিটি খেলোয়াড় এবং কোটি সমর্থক মাঠে ন্যায্যতা, সম্মান ও আইনের সঠিক প্রয়োগ পাওয়ার অধিকার রাখেন।
এর আগে খেলা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে তাঁর দল মাঠের ভেতর অন্যায়ের শিকার হয়েছে। এমনকি টুর্নামেন্টে লিওনেল মেসিকে টিকিয়ে রাখার জন্য ফিফা পরোক্ষভাবে কাজ করেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
প্রধান কোচ হোসাম হাসান বলেন, মাঠে তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে অনেক ভালো ফুটবল খেলেছেন। তবে মাঠের ভেতরের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত এবং মাঠের বাইরের কিছু অদৃশ্য বিষয় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাঁর মতে, হয়তো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এবং লিওনেল মেসিকে এই বিশ্বমঞ্চের প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল।
ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে সমতাসূচক গুরুত্বপূর্ণ গোলটি করেছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। অন্যদিকে মিশরের অভিযোগ, ম্যাচে তাদের করা একটি বৈধ গোল ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে বাতিল করা হয়। এছাড়া আর্জেন্টিনার করা শেষ জয়সূচক গোলটির ঠিক আগে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি সম্ভাব্য ফাউলের ঘটনাও রেফারিরা ভিএআর-এ খতিয়ে দেখেননি।
মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোলা এই গুরুতর ও বিতর্কিত অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এখন দেখার বিষয়, মিশরের এই কড়া বার্তার পর ফিফা কোনো জবাব দেয় কি না।




