ভৈরবে বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ২

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূচনা হয়। থেমে থেমে চলা এ সংঘর্ষ দুপুর ৩টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
নিহতরা হলেন—মিরারচর পূর্বপাড়া এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়া (৩০) এবং একই এলাকার ফজলুর রহমানের ছেলে হিরণ মিয়া (২৮)।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা জুঁই জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মাসুদ মিয়া মারা যান। আর গুরুতর আহত হিরণ মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ২৮ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। এ ছাড়া আহত আরও অনেকে স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশের সীমানায় গড়ে ওঠা একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি বাজারটির স্থায়ী নামকরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিনের এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ২৬ জুলাই কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র এবং পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের ১০ জন করে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সভায় বাজারের স্থায়ী নামকরণের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়ে বিরোধ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে মন্ত্রী এলাকা ত্যাগ করার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই সোমবার সকালে পুনরায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগে ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ও ১২ আগস্ট একই বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও টেঁটাযুদ্ধ হয়। সে সময়ও ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল।
এ দিনের সংঘর্ষের কারণে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথ প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিল। এতে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী ‘এগারসিন্দুর প্রভাতী’ ট্রেনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকেল ৩টার দিকে ট্রেন ও সড়ক যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেনি।
.png)





