বন্ধের নির্দেশের ১৩ দিন পরও চলছে অনুমোদনহীন হাসপাতাল

এশিয়া পোস্ট নিউজ, পিরোজপুর
বন্ধের নির্দেশের ১৩ দিন পরও চলছে অনুমোদনহীন হাসপাতাল
টপ টেন জেনারেল হাসপাতাল। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টপ টেন জেনারেল হাসপাতাল প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ মেলার পর প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে নির্দেশ জারির ১৩ দিন পরও হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, রোগী ভর্তি ও বিভিন্ন রোগ নির্ণয় পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।

Advertisement

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ মে টপ টেন জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে হাসপাতালটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অগ্নিনিরাপত্তা সনদ, পরিবেশ ছাড়পত্র, মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের লাইসেন্স এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চিকিৎসাসেবা পরিচালনার তথ্য উঠে আসে।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৭ জুন পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে হাসপাতালটির পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্দেশনার পরও হাসপাতালটি প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে রোগী ভর্তি, চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং বিভিন্ন রোগ নির্ণয় পরীক্ষা নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে হাসপাতালটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও দীর্ঘ সময় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। সেখানে টপ টেন জেনারেল হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা খুব দ্রুত নির্দেশনাটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সৌমিত্র সিংহ বলেন, আমরা আজকে (বুধবার) টপ টেন হাসপাতালে গিয়েছিলাম। বর্তমানে ওই হাসপাতালে চারজন ভর্তি রোগী আছে। তাদের স্থানান্তর করে হাসপাতালটি তালা দেওয়া হবে।

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, টপ টেন জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স ছাড়াই চিকিৎসাসেবা পরিচালনার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে যদি প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, তাহলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আপস করা হবে না।