logo

খুলনায় বাসভাড়া নিয়ে যাত্রী-পরিবহন শ্রমিকদের অসন্তোষ

খুলনায় বাসভাড়া নিয়ে যাত্রী-পরিবহন শ্রমিকদের অসন্তোষ
খুলনার কাউন্টারের সামনে অপেক্ষমান দূরপাল্লার বাস। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর খুলনা থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসে ভাড়া বাড়ানো নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে বিভিন্ন বাসে ইচ্ছামতো অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেলের দাম বাড়ায় বাস পরিচালনার খরচ বেড়েছে। তবে ভাড়া বাড়ানোর পর যাত্রীও কমে গেছে।

টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের ম্যানেজার মো. মিহির এশিয়া পোস্টকে বলেন, সরকার তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে। আমরা ভাড়া ৫০ টাকা বাড়িয়েছি।

ফাল্গুনী পরিবহনের ম্যানেজার সাব্বির বলেন, যাত্রীদের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিক্রিয়া নেগেটিভ, ভাই। ভাড়া বাড়ানোতে যাত্রীরা অসন্তুষ্ট। আগের ভাড়াতেই অনেক যাত্রী যেতে চাইতেন না। এখন ভাড়া বাড়ানোর কারণে আরও ঝামেলা হয়ে গেছে। এতে যাত্রীও কমছে এবং আমাদের সার্বিক দিক থেকেই সমস্যা হচ্ছে। বুঝতেই পারছেন, ভাড়া বাড়ানোতে আপাতত আমরা কোনো পজিটিভ প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি না, নেগেটিভ ছাড়া। এটাই সার্বিক বিষয়।

এনা ট্রান্সপোর্টের সাগর বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর কারণে আমরা এখনো ভাড়া বৃদ্ধি করিনি। বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ভাড়া বাড়াব। তারা যখন আমাদের নির্দেশনা দেবে, তখনই ভাড়া বৃদ্ধি করব।

ইমাদ পরিবহনের ফয়সাল বলেন, তেলের দাম বাড়ার পর তুলনামূলকভাবে যাত্রী অনেক কমে গেছে। যাত্রীরা কাউন্টারে এসে ভাড়া নিয়ে নানা কথা বলছেন, অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে বলছেন। ভাড়া কতটা বাড়ানো হয়েছে, সেটা মালিক-মহাজন এবং পরিবহন সেক্টরের বাস মালিক সমিতির লোকজনই ভালো জানেন।

সাতক্ষীরার তালা থেকে আসা যাত্রী সুফিয়া বলেন, ভাড়া বাড়ানোর পরে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া দিতে হয়। আগের ভাড়া দিতে চাইলে বাসের স্টাফরা নানা কথা বলে। এতে টাকা বেশি খরচ হচ্ছে, আমাদেরও সমস্যা হচ্ছে। তারা বলে, আগে আমরা যে তেল ১১৫ টাকা লিটারে কিনতাম, এখন ১৩৫ টাকা দিয়ে কিনি।

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে যশোরে যাচ্ছেন মাইনুল মোড়ল। সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বসে তিনি বলেন, বাসের স্টাফরা আগের ভাড়া তো নিচ্ছেই না, তারা নিজেরাই ভাড়া নির্ধারণ করে ইচ্ছামতো নিচ্ছেন। ভাড়া এত বেশি কেন জানতে চাইলে তারা বলেন, তেলের দাম বেড়েছে।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য মো. রাজ্জাক বলেন, আগে যাত্রীদের কাছে বাড়তি ভাড়া চাইলে তারা কম দিতে চাইলে ১০ টাকা কম নেওয়া যেত। এখন ভাড়া বাড়ার কারণে সেটাও করা যায় না। যাত্রীও কমে গেছে। সেই হিসাবে একদিকে যাত্রী কমছে, অন্যদিকে আয়ও কমছে। আমাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় চলে গেছে। যাত্রীদের কাছে ২০ টাকা বেশি ভাড়া চাইলে তারা খারাপ ব্যবহার করে। এতে যাত্রীদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও ভালো থাকে না।

তবে বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল গফফার বিশ্বাস এশিয়া পোস্টকে বলেন, তেলের দাম বাড়লে বাসের ভাড়া বাড়বে এটা স্বাভাবিক। ঢাকা-খুলনা রুটে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঢাকাতেই নেওয়া হয়েছে। খুলনায় আমরা এখন পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি দিইনি। তবে আশপাশের জেলা ও বিভাগে কর্মসূচি দেওয়া হলে আমরাও কর্মসূচি দেব।

তিনি আরও বলেন, বাস ভাড়া যারা বেশি নিচ্ছে, তারা তাদের ইচ্ছামতো নিচ্ছে।