logo

এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর জামালপুর পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান

এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর জামালপুর পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান
জামালপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযান চলাকালে নথিপত্র ও বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই করছেন কর্মকর্তারা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জামালপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদনপত্রে বিশেষ সংকেত ব্যবহার, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগ নিয়ে এশিয়া পোস্ট অনলাইনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জামালপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এ অভিযান চালানো হয়। দুদকের জামালপুর কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক জিহাদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কর্মকর্তারা অফিসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করেন। এ ছাড়া পাসপোর্ট অফিসসংলগ্ন কয়েকটি কম্পিউটার কম্পোজ ও ফটোকপির দোকানেও অভিযান চালানো হয়।

দুদক জানায়, অভিযানের শুরুতে কর্মকর্তারা ছদ্মবেশে সাধারণ সেবাপ্রার্থী হিসেবে অফিসের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সরেজমিনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান শেষে দুদকের উপসহকারী পরিচালক জিহাদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং আবেদনপত্রে বিশেষ চিহ্ন ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে পাঠানো হবে।

এর আগে, গত ২৭ আগস্ট এশিয়া পোস্ট অনলাইনে ‘জামালপুর পাসপোর্ট অফিসে বিশেষ সংকেত ছাড়া জমা হয় না ফাইল’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—সরকারি ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলেও সাধারণ আবেদনকারীদের নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। অথচ নির্দিষ্ট কিছু কম্পিউটার দোকান বা দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে কাগজে বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করে তা দ্রুত জমা নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

পাশাপাশি পাসপোর্ট অফিসের সামনে দালালদের প্রকাশ্য তৎপরতা, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং আবেদনপত্রে রহস্যজনক সংকেত ব্যবহারের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে আসে। অনুসন্ধানের সময় সাধারণ সেবাপ্রার্থীরাও একই ধরনের অভিযোগ করেন।

দুদকের অভিযানে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়—এখন সেদিকেই নজর সেবাপ্রার্থী ও সচেতন মহলের।