প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ঠাকুরগাঁও
প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মমিন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১১ বছর আগে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় মো. আব্দুল মমিন নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

Advertisement

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত আব্দুল মমিন পীরগঞ্জ উপজেলার ভাংবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগীর ছেলে। মামলার অপর আসামি মো. এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী ১৪ বছর বয়সি বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে একা পেয়ে প্রতিবেশী আব্দুল মমিন ধর্ষণ করে। এ সময় কিশোরীর মা বাড়ি ফিরে ঘটনা দেখে বাধা দিলে মমিন তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচার চেয়ে ব্যর্থ হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার রাণীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও চিকিৎসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মমিনকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন।

রায়ের নির্দেশনায় বলা হয়, আদায়কৃত অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী, প্রয়োজনে দণ্ডিতের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে এই অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি অবশেষে ন্যায়বিচার পেল। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ আদায়ের যে কঠোর নির্দেশনা আদালত দিয়েছেন, তা নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।