যমুনায় বিলীন শতবর্ষী স্কুল, শিক্ষকদের চাঁদায় টিকে আছে পাঠদান

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বগুড়া
যমুনায় বিলীন শতবর্ষী স্কুল, শিক্ষকদের চাঁদায় টিকে আছে পাঠদান
শিক্ষকরা চাঁদা তুলে সড়কের ওপর একচালা টিনের ঘর বানিয়ে চালাচ্ছেন পাঠদান। ছবি : এশিয়া পোস্ট

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে শতবর্ষী চকরথিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থায়ী কোনো ভবন বা বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর টিনের একচালা ছাপরা ঘরে চলছে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান। খোলা পরিবেশে কখনো বৃষ্টিতে ভিজে, আবার কখনো তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত যানবাহন ও মানুষ চলাচলের কারণে পড়াশোনায় তীব্র বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

Advertisement

উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ১০৭ বছরের ইতিহাসে বিদ্যালয়টির অনেক সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সাল থেকে বিদ্যালয়টি যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে। এ পর্যন্ত মোট ছয়বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ গত ১৭ মে বিদ্যালয়ের মূল ভবন ও আঙিনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর নিরুপায় হয়ে শিক্ষকরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে চাঁদা তুলে উপজেলার হাটশেরপুর গ্রামের একটি সড়কের ওপর একচালা টিনের ছাপরা নির্মাণ করেন। গত ৮ জুন থেকে ওই অস্থায়ী স্থাপনাতেই চলছে ক্লাস। চারদিক খোলা থাকায় এবং বিদ্যুৎ–সংযোগ না থাকায় রোদে-বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, নদী পার হয়ে তাকে প্রতিদিন স্কুলে আসতে হয়। কিন্তু এখানে এসে কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে হচ্ছে, আবার কখনো প্রচণ্ড গরমে ঘেমে যেতে হচ্ছে। সড়ক দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচলের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া যায় না। সে দ্রুত বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানায়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিন্নাহ আলম বলেন, গত ১০ বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি। এর মধ্যে ছয়বার নদীভাঙনের শিকার হতে হয়েছে। সর্বশেষ ভবনটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পর উপায় না পেয়ে নিজেদের অর্থায়নে সড়কের ওপর এই অস্থায়ী ছাপরা নির্মাণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, এখানে কোনো বাথরুমের ব্যবস্থাও নেই। সামনে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা, অথচ এই বৈরী পরিবেশে শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি তৈরি হচ্ছে। আমরা দ্রুত বিদ্যালয়টি একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাতাবুর রহমান বলেন, নদীভাঙনের শিকার বিদ্যালয়টি আমি কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়টি নিজস্ব জায়গায় পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ চলমান রয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।