আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য ফাইনাল পথ: কবে, কোথায়, কার বিপক্ষে

গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই নিজেদের কাজ সেরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ ‘জে’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করায় এখন শেষ ৩২-এর প্রতিপক্ষও জানা হয়ে গেছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নকআউট অভিযান শুরু হবে কেপ ভার্দের বিপক্ষে। বিশ্বকাপ অভিষেকেই গ্রুপ ‘এইচ’-এর দ্বিতীয় দল হয়ে ইতিহাস গড়া আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির বিপক্ষে মায়ামিতে নামবে লিওনেল মেসির দল।
কেপ ভার্দে গ্রুপ ‘এইচ’-এ তিন ম্যাচে তিন ড্র করে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে। স্পেন ৭ পয়েন্টে গ্রুপসেরা, আর উরুগুয়ে ও সৌদি আরব ২ পয়েন্ট করে নিয়ে বিদায় নিয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে ০-০ ড্র এবং একই সময়ে স্পেনের কাছে উরুগুয়ের ১-০ হারে কেপ ভার্দের শেষ ৩২ নিশ্চিত হয়।
আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি হবে ৩ জুলাই, মায়ামিতে। মায়ামির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ম্যাচ শুরু হবে। আর্জেন্টিনা সময় সেটি সন্ধ্যা ৭টা, আর বাংলাদেশ সময় ৪ জুলাই ভোর ৪টা।
ফাইনালে যেতে হলে আর্জেন্টিনাকে পেরোতে হবে পাঁচ ধাপ। শেষ ৩২, শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল। প্রথম ধাপে প্রতিপক্ষ নিশ্চিত হলেও পরের ধাপগুলো সম্ভাব্য হিসাব। কারণ বাকি ম্যাচগুলোর ফলের ওপর প্রতিপক্ষ বদলাবে।
আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য পথ
| ধাপ | বাংলাদেশ সময় | সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ |
|---|---|---|
| শেষ ৩২ | ৪ জুলাই, ভোর ৪টা | কেপ ভার্দে |
| শেষ ১৬ | ৭ জুলাই, রাত ১০টা | অস্ট্রেলিয়া/মিসর |
| কোয়ার্টার ফাইনাল | ১২ জুলাই, সকাল ৭টা | সম্ভাব্য কলম্বিয়া/পর্তুগাল/সুইজারল্যান্ড |
| সেমিফাইনাল | ১৬ জুলাই, রাত ১টা | সম্ভাব্য ব্রাজিল/ইংল্যান্ড |
| ফাইনাল | ২০ জুলাই, রাত ১টা | সম্ভাব্য ফ্রান্স/স্পেন/নেদারল্যান্ডস/জার্মানি |
শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে হলেও ম্যাচটি সহজ ভাবার সুযোগ নেই। বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই তারা স্পেন ও উরুগুয়ের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের গ্রুপ থেকে উঠে এসেছে। তিন ম্যাচেই ড্র করে অপরাজিত থেকেছে। বড় তারকা না থাকলেও সংগঠিত রক্ষণ, শৃঙ্খলা এবং গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অভিজ্ঞতা তাদের বড় শক্তি।
কেপ ভার্দের আরেকটি শক্তি তাদের মানসিকতা। স্পেনের বিপক্ষে তারা চাপ সামলেছে, উরুগুয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরেছে, আর সৌদি আরবের বিপক্ষে দরকারি ফল বের করে নিয়েছে। এই ধরনের দল নকআউটে বড় প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। আর্জেন্টিনাকে তাই শুরু থেকেই ধৈর্য, গতি এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা দেখাতে হবে।
আর্জেন্টিনা এই বাধা পেরোতে পারলে শেষ ১৬-এ সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া বা মিসর। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দেখা হলে সেটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর পুনরাবৃত্তি হবে। সেবার আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চাপ ছিল ম্যাচে। মিসর হলে সামনে থাকবে মোহাম্মদ সালাহদের চ্যালেঞ্জ।
কোয়ার্টার ফাইনালের হিসাব এখনো অনুমাননির্ভর। বর্তমান ব্র্যাকেট অনুযায়ী সেখানে আর্জেন্টিনার সামনে আসতে পারে গ্রুপ ‘কে’-এর শক্তিশালী দল, যেমন কলম্বিয়া বা পর্তুগাল। সুইজারল্যান্ডও ওই পথের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকতে পারে।
সবচেয়ে বড় আগ্রহ অবশ্য সেমিফাইনাল নিয়ে। ব্র্যাকেটের হিসাবে আর্জেন্টিনা এগোতে থাকলে সম্ভাব্য সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে ব্রাজিল বা ইংল্যান্ডের সঙ্গে। ব্রাজিল হলে সেটি হবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত দক্ষিণ আমেরিকান লড়াইগুলোর একটি। ইংল্যান্ড হলে সেটিও হবে ইতিহাস, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও চাপের বড় ম্যাচ।
ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার সঙ্গে ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডস বা জার্মানির দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই, যদি তারা নিজ নিজ পথে এগোয়। এই দলগুলো ব্র্যাকেটের অন্য পাশে আছে। তাই ফাইনালেই কেবল এসব বড় শক্তির কোনো একটির মুখোমুখি হতে পারে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে আপাতত আর্জেন্টিনার সামনে একটাই কাজ। কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করা। গ্রুপ পর্বে মেসির গোল, দলের ভারসাম্য এবং লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনা আর্জেন্টিনাকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু নকআউটে আর কোনো ভুলের সুযোগ নেই। এক ম্যাচ খারাপ গেলেই শেষ হয়ে যাবে বিশ্বকাপ ধরে রাখার স্বপ্ন।
তাই ফাইনালের পথ যতই আকর্ষণীয় হোক, আর্জেন্টিনার যাত্রা শুরু হচ্ছে মায়ামির এক সতর্ক পরীক্ষায়। প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে, যারা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে, এই বিশ্বকাপে তাদের গল্পকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।






