এক মাস চা না খেলে শরীরে দেখবেন যেসব পরিবর্তন

সকালের শুরু হোক কিংবা বিকেলের আড্ডা, এক কাপ চা ছাড়া অনেকের দিনই যেন সম্পূর্ণ হয় না। বিশেষ করে আমাদের দেশে চা শুধু একটি পানীয় নয়, এটি অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে প্রতিদিন কয়েক কাপ চা খাওয়ার অভ্যাস শরীরের ওপর কিছু প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অনেকেই জানতে চান, যদি এক মাসের জন্য চা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে কী ঘটতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবার ক্ষেত্রে একই রকম পরিবর্তন নাও হতে পারে। কারণ এটি নির্ভর করে একজন ব্যক্তি আগে কতটা চা খেতেন, তার শরীরের অবস্থা এবং জীবনযাত্রার ওপর। তবে কিছু সম্ভাব্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
চলুন জেনে নিই ৩০ দিন চা বাদ দিলে কী কী পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
উদ্বেগ ও অস্থিরতা কমতে পারে
চায়ে থাকা ক্যাফেইন শরীরকে সতেজ করে এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন অনেকের ক্ষেত্রে উদ্বেগ, অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা নার্ভাস লাগার কারণ হতে পারে।
যারা আগে দিনে কয়েক কাপ চা খেতেন, তারা এক মাস চা না খেলে মানসিক অস্থিরতা কিছুটা কম অনুভব করতে পারেন। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই উদ্বেগ বা প্যানিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ক্যাফেইন কমানো উপকারী হতে পারে।
ঘুমের মান উন্নত হতে পারে
বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ ঘুমের স্বাভাবিক চক্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এতে রাতে ঘুম আসতে দেরি হওয়া, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা সকালে ক্লান্ত অনুভব করার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চা ছেড়ে দিলে অনেকের ঘুম আরও গভীর ও স্বস্তিদায়ক হতে পারে। বিশেষ করে যারা বিকেল বা রাতে নিয়মিত চা পান করেন, তারা এ পরিবর্তন বেশি টের পেতে পারেন।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে
ক্যাফেইন সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রভাব সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় না, তবুও যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত চা পান সমস্যা বাড়াতে পারে।
চা কমিয়ে দিলে বা বন্ধ করলে কিছু মানুষের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হতে পারে।
নারীদের জন্য কিছু বাড়তি উপকার হতে পারে
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরের হরমোনের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মেনোপজের সময় গরম লাগা বা অস্বস্তির মতো কিছু উপসর্গ ক্যাফেইনের কারণে বেড়ে যেতে পারে।
তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন এবং সব নারীর ক্ষেত্রে একই ফল দেখা যায় না।
আয়রন শোষণে বাধা কমতে পারে
চায়ে থাকা ট্যানিন খাবার থেকে আয়রন শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। তাই যাদের রক্তশূন্যতা বা আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাদের খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পরপরই চা না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এক মাস চা না খেলে শরীর আয়রন আরও ভালোভাবে শোষণ করতে পারে, যদি খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আয়রন থাকে।
শুরুতে কিছু অস্বস্তি হতে পারে
যারা প্রতিদিন নিয়মিত চা পান করেন, তারা হঠাৎ চা বন্ধ করলে কয়েক দিনের জন্য কিছু প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন - মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া, বিরক্তি বা মেজাজ খিটখিটে হওয়া ও ঘুম ঘুম ভাব।
সাধারণত কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে এসব উপসর্গ কমে যায়।
অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য
অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকালীন সময়ে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে একেবারে চা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
চায়ের বদলে কী পান করতে পারেন?
চা ছেড়ে দিতে চাইলে স্বাস্থ্যকর কিছু বিকল্প বেছে নিতে পারেন। যেমন-
- পুদিনা চা
- ক্যামোমাইল চা
- আদা চা
- লেবু মিশ্রিত গরম পানি
- দারুচিনি ও মধু মিশ্রিত পানীয়
- চিনি ছাড়া হারবাল টি
চা পরিমিত পরিমাণে পান করলে অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য তা নিরাপদ। তবে দিনে বারবার চা পান করার অভ্যাস থাকলে এক মাসের জন্য তা বন্ধ বা কমিয়ে দিলে ঘুম, মানসিক স্বস্তি এবং কিছু শারীরিক পরিবর্তন ইতিবাচক হতে পারে। তবে চা খাওয়া বা না খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের স্বাস্থ্য, ওষুধ সেবনের ইতিহাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ বিবেচনা করাই সবচেয়ে ভালো।
সূত্র: নিউজ ১৮







