তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা কী, জানুন পুষ্টিগুণ ও সতর্কতা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা কী, জানুন পুষ্টিগুণ ও সতর্কতা
ছবি : এআই

টক-মিষ্টি স্বাদের জন্য তেঁতুল ছোট-বড় সবার কাছেই জনপ্রিয়। ফুচকা, চাটনি, ডাল, ভর্তা থেকে শুরু করে নানা ধরনের পানীয় ও রান্নায় তেঁতুলের ব্যবহার রয়েছে। তবে শুধু স্বাদের জন্যই নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও তেঁতুলের কদর দিনদিন বাড়ছে।

Advertisement

তেঁতুলে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার এবং বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিজ্জ উপকারী যৌগ। দীর্ঘদিন ধরে এটি বিভিন্ন দেশে ঐতিহ্যবাহী ভেষজ চিকিৎসাতেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক গবেষণায়ও তেঁতুলের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেঁতুলের অনেক সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা হলেও সেগুলোর বেশির ভাগই এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই একে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে নয়, বরং একটি স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

তেঁতুল কী

তেঁতুল একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল, যা ট্যামারিন্ডাস ইন্ডিকা (Tamarindus indica) গাছে জন্মায়। ফলটি বাদামি রঙের শক্ত খোসার ভেতরে থাকে। এর মধ্যে থাকে আঠালো, আঁশযুক্ত শাঁস এবং শক্ত বীজ।

পাকা তেঁতুলের শাঁসের স্বাদ টক ও মিষ্টির মিশ্রণ। এটি কাঁচা, পেস্ট, কনসেনট্রেট, গুঁড়া কিংবা পানীয় তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

তেঁতুলের পুষ্টিগুণ

তেঁতুলে রয়েছে -

  • খাদ্যআঁশ বা ফাইবার
  • ভিটামিন বি
  • ভিটামিন সি
  • আয়রন
  • ক্যালসিয়াম
  • ম্যাগনেসিয়াম
  • পটাশিয়াম
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
  • পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ

এই উপাদানগুলো শরীরের বিভিন্ন কাজে ভূমিকা রাখে।

তেঁতুল খাওয়ার সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস: তেঁতুলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ফ্রি র‌্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা থাকতে পারে।

প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে: তেঁতুলে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও ট্যানিনের মতো যৌগ শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো জয়েন্টের ফোলাভাব ও ব্যথা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও মানবভিত্তিক গবেষণা প্রয়োজন।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে: একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন তেঁতুলের রস পান করলে কিছু মানুষের রক্তচাপ ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমতে পারে। তবে এই গবেষণাটি সীমিত সংখ্যক মানুষের ওপর করা হয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে একই উপকার পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও বড় গবেষণা প্রয়োজন।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, তেঁতুল রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি ওষুধের বিকল্প নয়। বরং নিয়মিত বেশি পরিমাণে তেঁতুল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

হজমে সাহায্য করতে পারে: তেঁতুলের ফাইবার ও কিছু বিশেষ উদ্ভিজ্জ উপাদান অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে হজম ভালো হতে পারে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত হতে পারে।

কিছু জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে: গবেষণাগারে করা কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে, তেঁতুলের নির্যাস কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধি দমন করতে পারে। তবে মানুষের রোগের চিকিৎসায় এটি কার্যকর কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

কারা তেঁতুল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন?

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি: তেঁতুল রক্তে শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তারা অতিরিক্ত তেঁতুল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

যাদের সহজেই পেট খারাপ হয়: অতিরিক্ত তেঁতুল খেলে কারও কারও ডায়রিয়া, পেটব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে। কারণ তেঁতুলের হালকা প্রাকৃতিক জোলাপের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

দাঁতের সমস্যা থাকলে: তেঁতুল বেশ অম্লীয়। তাই বারবার বা বেশি পরিমাণে খেলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।

তেঁতুল খাওয়ার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ কুলি করলে এ ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

কীভাবে তেঁতুল খেতে পারেন?

তেঁতুল বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। যেমন - কাঁচা তেঁতুল, তেঁতুলের শরবত, চাটনি, ডাল ও তরকারিতে, মাছ বা মাংসের রান্নায়, সস ও মেরিনেডে, তেঁতুলের পেস্ট, শুকনো তেঁতুলের গুঁড়া এবং বিভিন্ন ধরনের টক-মিষ্টি ক্যান্ডি।

কতটা খাওয়া উচিত?

তেঁতুলের নির্দিষ্ট দৈনিক গ্রহণমাত্রা নির্ধারিত নেই। তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। অতিরিক্ত খাওয়ার পরিবর্তে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে তেঁতুল খেলে এর পুষ্টিগুণ উপভোগ করা যায়।

তেঁতুল শুধু স্বাদের জন্য নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও একটি উপকারী ফল। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ হৃদ্‌স্বাস্থ্য, হজম এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে তেঁতুল কোনো অলৌকিক ওষুধ নয়। এর অনেক সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।

সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে