সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে ‘দুলাভাই বাহিনীর’ গোলাগুলি, নিহত ১

এশিয়া পোস্ট নিউজ, খুলনা
সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে ‘দুলাভাই বাহিনীর’ গোলাগুলি, নিহত ১
আটক বনদস্যু সদস্যকে হেফাজতে নিয়ে যাচ্ছে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে বনদস্যু ‘দুলাভাই বাহিনীর’ সদস্যদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সওকত সরদার (৬০) নামে এক বনদস্যু নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন রবিউল ইসলাম ও ইসরাফিল হোসেন নামের আরও দুজন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন ময়দাপাশা খাল এলাকায় গোলাগুলির এই ঘটনা ঘটে।

নিহত সওকত সরদার (৬০) উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

কোস্টগার্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া গুরুতর আহত রবিউল ইসলাম (৫০) ও ও তার সহযোগী ইসরাফিল হোসেনকে (৩৫) প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা শেষে পুনরায় কোস্টগার্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রবিউল ইসলামই সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান। একসময় সুন্দরবনে ‘ইলিয়াস বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি বনদস্যু চক্রের ত্রাস ছিল। সেই বাহিনীর প্রধান ইলিয়াস নিহত হওয়ার পর ২০২৪ সালে তার বোনের স্বামী (দুলাভাই) রবিউল ইসলাম নতুন করে এই দস্যু দলটি গঠন করে। এরপর থেকেই স্থানীয়দের মুখে মুখে এটি ‘দুলাভাই বাহিনী’ নামে পরিচিতি পায়।

গোলাগুলির বর্ণনা দিয়ে কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হঠাৎ বনের ভেতরে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। রাতভর প্রায় শতাধিক রাউন্ড গুলির শব্দের পাশাপাশি আগুনের লেলিহান শিখাও ওপরের দিকে উঠতে দেখা গেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে গ্রামবাসী রাতভর লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় পাহারা দেন।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সুন্দরবনের গহীনে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের এক বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে ডাকাত দল কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অতর্কিত গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ড সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়েন। রাতব্যাপী চলা এই অভিযানে তিন ডাকাত সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। বনসংলগ্ন এলাকায় এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল করিম বলেন, কোস্টগার্ড সদস্যরা গুলিবিদ্ধ তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। এর মধ্যে সওকত সরদার হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান, তার শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল। অপর দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কয়রা থানার ওসি মো. শাহ আলম বলেন, কোস্টগার্ডের উদ্ধার করা তিনজনের মধ্যে একজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন। বাকি দুজনকে পুলিশ পাহারায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বিষয় :খুলনা