চা নাকি কফি, পছন্দই বলে দিতে পারে আপনি কেমন মানুষ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
চা নাকি কফি, পছন্দই বলে দিতে পারে আপনি কেমন মানুষ
ছবি : এআই

দিনের শুরু এক কাপ গরম পানীয় ছাড়া অনেকেরই কল্পনা করা কঠিন। কেউ ঘুম ভাঙতেই কফির মগ হাতে নেন, আবার কেউ ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা ছাড়া সকাল শুরু করতে চান না। এই পছন্দ শুধু স্বাদের বিষয় নয়, বরং জীবনযাপনের ধরন, কাজের গতি এবং মানসিক চাহিদার সঙ্গেও কিছুটা সম্পর্ক থাকতে পারে।

Advertisement

তবে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। শুধু চা বা কফি পছন্দ করেন বলেই কারও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মনোবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, মানুষ সাধারণত এমন পানীয়ই বেছে নেয়, যা তার শরীর ও মস্তিষ্কের প্রয়োজনের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানিয়ে যায়।

কফি দ্রুত চাঙা করে

চা এবং কফি দুটিতেই ক্যাফেইন থাকে। তবে কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

এক কাপ কফিতে সাধারণত ৯৫ থেকে ১৬৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন থাকতে পারে। অন্যদিকে একই পরিমাণ ব্ল্যাক টিতে থাকে প্রায় ২৫ থেকে ৪৮ মিলিগ্রাম এবং গ্রিন টিতে ২৫ থেকে ২৯ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন।

এই কারণেই কফি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেকের সতর্কতা, মনোযোগ এবং কর্মক্ষমতা দ্রুত বেড়ে যায়। যারা ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যে দ্রুত শক্তি পেতে চান, তাদের অনেকেই কফির দিকে ঝোঁকেন।

চায়ের রয়েছে আলাদা সুবিধা

চায়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য শুধু ক্যাফেইন নয়। এতে থাকে এল-থিয়ানিন নামের একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড।

গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাফেইনের সঙ্গে এল-থিয়ানিন একসঙ্গে কাজ করলে মনোযোগ ধরে রাখতে সুবিধা হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত উত্তেজনা বা অস্থিরতার অনুভূতিও কিছুটা কমতে পারে।

ফলে অনেকেই চা পান করার পর নিজেকে শান্ত কিন্তু সতর্ক অনুভব করেন। দীর্ঘ সময় মনোযোগ দিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হতে পারে।

চা পছন্দ করলে কি আপনি স্বভাব কেমন

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পান করা মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ তুলনামূলক কম থাকতে পারে। বিশেষ করে গ্রিন টি নিয়ে হওয়া কিছু গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, যারা চা পান করেন তারা সবাই শান্ত বা ধৈর্যশীল, আর কফিপ্রেমীরা সবসময় চঞ্চল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ব্যক্তিত্বের চেয়ে বেশি সম্পর্কিত ব্যক্তির পছন্দ, শারীরিক প্রতিক্রিয়া এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে।

কফিপ্রেমীদের ক্ষেত্রেও একই কথা

কফি পছন্দ করেন মানেই আপনি সবসময় কর্মপাগল বা অস্থির প্রকৃতির, এমন ধারণারও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

অনেকেই সকালে ঘুম কাটাতে, আবার কেউ দীর্ঘ সময় কাজের সময় মনোযোগ ধরে রাখতে কফি পান করেন। কারও শরীর বেশি ক্যাফেইন সহজে সহ্য করতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে অল্প কফিতেই অস্থিরতা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।


শরীরের প্রয়োজনও গুরুত্বপূর্ণ

কোন পানীয় আপনার জন্য বেশি উপযোগী হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার শরীরের ওপর। যেমন-

যাদের ক্যাফেইনে সংবেদনশীলতা বেশি, তারা চা পান করে বেশি স্বস্তি পেতে পারেন।

যারা দ্রুত শক্তি ও সতর্কতা চান, তাদের কাছে কফি বেশি কার্যকর মনে হতে পারে।

রাতে ঘুমের সমস্যা থাকলে বিকেল বা সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলাই ভালো।

তাহলে কোনটি ভালো?

চা নাকি কফি, এর নির্দিষ্ট কোনো একক উত্তর নেই। দুটি পানীয়ই পরিমিত পরিমাণে পান করলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অতিরিক্ত চিনি, ক্রিম বা উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত উপাদান যোগ না করা এবং নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে পরিমাণ নির্ধারণ করা।

আপনার প্রিয় পানীয় হয়তো আপনার দৈনন্দিন জীবনযাপনের কিছু ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু সেটি দিয়ে আপনার পুরো ব্যক্তিত্ব বিচার করা সম্ভব নয়।

কেউ দিনের শুরু করেন এক কাপ গাঢ় কফি দিয়ে, আবার কেউ ধীরে ধীরে চায়ের কাপে চুমুক দিতে ভালোবাসেন। দুই অভ্যাসই স্বাভাবিক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এমন পানীয় বেছে নেওয়া যা আপনার শরীর, কাজের ধরন এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে সবচেয়ে ভালোভাবে মানিয়ে যায়।

সূত্র: টিভি ৯