ব্রাজিলের সম্ভাব্য ফাইনাল পথ: কবে, কোথায়, কার বিপক্ষে

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ব্রাজিলের সম্ভাব্য ফাইনাল পথ: কবে, কোথায়, কার বিপক্ষে
ব্রাজিল ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষে থেকে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরা হওয়ার পর কার্লো আনচেলত্তির দলের নকআউট পথও এখন অনেকটাই পরিষ্কার। প্রথম পরীক্ষায় তাদের সামনে জাপান। এরপর এগোতে পারলে একে একে অপেক্ষা করতে পারে আইভরি কোস্ট বা নরওয়ে, মেক্সিকো বা গ্রুপ ‘এল’-এর শক্তিশালী কোনো দল, আর সেমিফাইনালে সম্ভাব্য আর্জেন্টিনা মহারণ।

Advertisement

ব্রাজিলের শেষ ৩২-এর ম্যাচ হবে সোমবার, ২৯ জুন, হিউস্টনে। প্রতিপক্ষ গ্রুপ ‘এফ’-এর দ্বিতীয় দল জাপান। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে সোমবার রাত ১১টায়। ব্রাজিল সময় দুপুর ২টা।

গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল শুরু করেছিল মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে। এরপর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে একই ব্যবধানে, ৩-০ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ওঠে তারা। মরক্কোর পয়েন্টও ছিল ৭, তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে গ্রুপসেরা হয় ব্রাজিল।

ফাইনালে যেতে হলে ব্রাজিলকে পেরোতে হবে পাঁচ ধাপ। শেষ ৩২, শেষ ১৬, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল। প্রথম ধাপে প্রতিপক্ষ নিশ্চিত, দ্বিতীয় ধাপের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষও পরিষ্কার। তবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে হিসাব সম্ভাব্য, কারণ বাকি ম্যাচগুলোর ফলের ওপর প্রতিপক্ষ বদলাবে।

ব্রাজিলের সম্ভাব্য পথ

 ধাপবাংলাদেশ সময়সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ/ম্যাচ
 শেষ ৩২২৯ জুন, রাত ১১টাজাপান
 শেষ ১৬৬ জুলাই, রাত ২টাআইভরি কোস্ট/নরওয়ে
 কোয়ার্টার ফাইনাল১২ জুলাই, রাত ৩টাসম্ভাব্য মেক্সিকো/ ইংল্যান্ড
 সেমিফাইনাল১৬ জুলাই, রাত ১টাসম্ভাব্য আর্জেন্টিনা/পর্তুগাল/কলম্বিয়া/সুইজারল্যান্ড
 ফাইনাল২০ জুলাই, রাত ১টাসম্ভাব্য ফ্রান্স/স্পেন/নেদারল্যান্ডস/জার্মানি

শেষ ৩২-এ জাপানকে সহজ প্রতিপক্ষ ভাবার সুযোগ নেই। গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ডসের পেছনে দ্বিতীয় হয়েছে তারা। সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করা দলটি টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেদের শৃঙ্খলা, দ্রুত পাসিং ও চাপ প্রয়োগ দিয়ে নজর কেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়ের অভিজ্ঞতাও আছে জাপানের, যা নকআউটের আগে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্মৃতিও অবশ্য ভালো। ২০০৬ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে ৪-১ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল। তবে অতীতের ফল নকআউটে খুব বেশি সুরক্ষা দেয় না। এই জাপান সংগঠিত, দ্রুত এবং এক পয়েন্ট ধরে রাখার খেলাও জানে। তাই আনচেলত্তির দলের জন্য প্রথম পরীক্ষাই সতর্কতার।

ব্রাজিল জাপানকে হারাতে পারলে শেষ ১৬-এ প্রতিপক্ষ হবে আইভরি কোস্ট বা নরওয়ে। দুই দলই ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ। আইভরি কোস্ট শারীরিক শক্তি, গতি ও পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক। নরওয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আর্লিং হলান্ড। তাই এই ধাপে ব্রাজিলের রক্ষণকে বড় পরীক্ষা দিতে হতে পারে।

কোয়ার্টার ফাইনালের হিসাব আরও জটিল। ওই পথে মেক্সিকো আছে, যারা গ্রুপ ‘এ’-তে তিন ম্যাচ জিতে শীর্ষে উঠেছে। অন্য দিক থেকে আসতে পারে গ্রুপ ‘এল’-এর বিজয়ীর পথের কোনো দল, যেখানে ইংল্যান্ড, ঘানা ও ক্রোয়েশিয়ার হিসাব আছে। তাই ব্রাজিল কোয়ার্টারে উঠলে প্রতিপক্ষ হতে পারে মেক্সিকো, ইংল্যান্ড, ঘানা, ক্রোয়েশিয়া বা অন্য কোনো সেরা তৃতীয় দল। শেষ হিসাব নির্ভর করবে শেষ ৩২ ও শেষ ১৬-এর ফলের ওপর।

সবচেয়ে বড় আলোচনার জায়গা সেমিফাইনাল। নকআউট ছকের হিসাবে ব্রাজিল এগোতে থাকলে একই পাশে আছে আর্জেন্টিনা। মেসিদের দল নিজেদের পথ ধরে এগোলে সেমিফাইনালে হতে পারে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মহারণ। তবে ওই পথেই আছে পর্তুগাল বা কলম্বিয়ার মতো দলও, গ্রুপ ‘কে’-এর ফলের ওপর নির্ভর করে। সুইজারল্যান্ডও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের তালিকায় থাকতে পারে।

ফাইনালের আগে ব্রাজিলের সঙ্গে ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডস বা জার্মানির দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই, যদি তারা নিজ নিজ পথ ধরে এগোয়। এই দলগুলো ছকের অন্য পাশে আছে। তাই ব্রাজিল ফাইনালে উঠলে ওই দিক থেকে আসা কোনো বড় শক্তির মুখোমুখি হতে পারে।

ব্রাজিলের জন্য ইতিবাচক দিক হলো ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ফর্ম, রায়ানের উত্থান এবং নেইমারের ফেরা। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে নেইমার বদলি নেমে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম মিনিট পেয়েছেন। রায়ানও রাফিনিয়ার অনুপস্থিতিতে ডান প্রান্তে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন। নকআউটের আগে নেইমারের ফিটনেস আরও বাড়লে আনচেলত্তির আক্রমণে বিকল্প বাড়বে।

তবে নকআউটের পথ সহজ নয়। জাপান ম্যাচেই প্রথম ভুলের সুযোগ শেষ। এরপর প্রতিটি ধাপে প্রতিপক্ষ আরও কঠিন হবে। ব্রাজিলের ছয় নম্বর বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই ফাইনালের মতো খেলতে হবে।

আপাতত হিসাবটা পরিষ্কার। ব্রাজিলের পথ শুরু জাপান দিয়ে। জাপান পেরোলে আইভরি কোস্ট বা নরওয়ে। তারপর কোয়ার্টার ফাইনালের কঠিন পরীক্ষা। সব বাধা পেরোতে পারলেই সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে আর্জেন্টিনার সঙ্গে, আর সেখান থেকে নিউইয়র্ক নিউ জার্সির ফাইনালের স্বপ্ন।