অতিরিক্ত চুল পড়ছে, নিয়মিত খান এই ৪ ফল

চুল পড়া এখন শুধু বয়সের সমস্যা নয়। অনেকেই অল্প বয়সেই অতিরিক্ত চুল ঝরে যাওয়ার কারণে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। কেউ দামি শ্যাম্পু ব্যবহার করেন, কেউ আবার বিভিন্ন ধরনের তেল বা অনলাইনে পাওয়া নানা পণ্য কিনে ব্যবহার করেন। কিন্তু সব সময় এসব পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল সুস্থ রাখতে বাইরের যত্নের পাশাপাশি শরীরের ভেতর থেকেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কিছু ফল নিয়মিত খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পায়, যা চুলের গোড়া শক্ত রাখতে এবং চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডোকে অনেকেই সুপারফুড বলে থাকেন। এতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, বিশেষ করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মাথার ত্বক আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া এতে থাকা বায়োটিন, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন সি চুলের গোড়া শক্ত রাখতে ভূমিকা রাখে। এসব পুষ্টি উপাদান কেরাটিন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা চুলের অন্যতম প্রধান গঠন উপাদান। একই সঙ্গে এটি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের ফলিকলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে।
বেরি জাতীয় ফল
স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি ও রাস্পবেরির মতো ফল ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস।
ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। কোলাজেন চুলের গঠন শক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের ফলিকলকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করতে পারে।
ফলে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে এসব ফল খেলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
পেঁপে
সহজলভ্য ফলগুলোর মধ্যে পেঁপে চুলের জন্য বেশ উপকারী।
এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফোলেট এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ভিটামিন এ মাথার ত্বকে প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম উৎপাদনে সাহায্য করে, যা মাথার ত্বক শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
এ ছাড়া পেঁপেতে থাকা এনজাইম মাথার ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সহায়তা করে, ফলে মাথার ত্বক পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর থাকতে পারে।
কমলালেবু
কমলালেবু ভিটামিন সি-এর অন্যতম ভালো উৎস।
এই ভিটামিন কোলাজেন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে।
কমলালেবুর উচ্চ জলীয় অংশ শরীরকে আর্দ্র রাখতেও সাহায্য করে, যা মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
প্রতিদিন কি ফল খাওয়া প্রয়োজন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়া শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ফল থেকে পাওয়া ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শুধু চুল নয়, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শুধু ফল খেলেই চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, স্বাস্থ্যকর চর্বি, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও চুল সুস্থ রাখার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চুল পড়ার পেছনে বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ কিংবা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও দায়ী হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে চুল পড়তে থাকলে শুধু খাদ্যাভ্যাস বদলালেই হবে না, প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শও নিতে হবে।
সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে অ্যাভোকাডো, বেরি, পেঁপে ও কমলালেবুর মতো পুষ্টিকর ফল নিয়মিত খেলে চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে ভালো ফল পেতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া







