আর্জেন্টিনার গোলের উদাহরণ টেনে ফিফায় ব্রাজিলের প্রতিবাদ

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
আর্জেন্টিনার গোলের উদাহরণ টেনে ফিফায় ব্রাজিলের প্রতিবাদ
ভিএআর গোল বাতিল করায় ক্ষুদ্ধ হন ভিনি। ছবি: সংগৃহীত

স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে ব্রাজিল। শেষ ৩২-এও জায়গা নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। তবু ম্যাচ শেষে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন। কারণ, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি গোল ভিডিও সহকারী রেফারির হস্তক্ষেপের পর বাতিল হওয়া।

Advertisement

ব্রাজিলের আপত্তি শুধু গোল বাতিল নিয়ে নয়, একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েও। নিজেদের যুক্তিতে সিবিএফ আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে লিওনেল মেসির প্রথম গোলের আগের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনেছে। তাদের দাবি, ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় সম্ভাব্য ফাউলের ঘটনা থাকলেও খেলা চলতে দেওয়া হয়েছিল। অথচ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুসের ক্ষেত্রে ভিডিও সহকারী রেফারি হস্তক্ষেপ করে গোল বাতিল করা হয়েছে।

ঘটনাটি স্কটল্যান্ড ম্যাচের প্রথমার্ধের ২১ মিনিটের। তখন ব্রাজিল ১-০ গোলে এগিয়ে। স্কটল্যান্ডের রক্ষণ থেকে বল কাড়েন ভিনিসিয়ুস। এরপর বক্সে ঢুকে গোলও করেন তিনি। শুরুতে গোলটি বৈধ ধরা হয়েছিল। কিন্তু পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে মনিটরে গিয়ে রিপ্লে দেখেন মেক্সিকান রেফারি সেসার রামোস। তার সিদ্ধান্ত, বল কাড়ার সময় জ্যাক হেন্ড্রির ওপর ফাউল করেছেন ভিনিসিয়ুস। তাই গোল বাতিল হয়।

সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন ভিনিসিয়ুস। মাঠেই তিনি রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ব্রাজিল দলও মনে করছে, সিদ্ধান্তটি প্রতিযোগিতায় ভিডিও সহকারী রেফারি ব্যবহারের সামগ্রিক ধারা বা ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সিবিএফের বক্তব্য, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের বাতিল গোলটি বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের যে দর্শন অনুসরণ করা হচ্ছে, তার সঙ্গে মেলে না। তাদের দাবি, ঘটনাটি শুধু ব্রাজিলের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল না, স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়াতেও মনে হয়েছে তারা গোল বাতিল বা রিভিউ আশা করেনি।

ব্রাজিলের অভিযোগে আর্জেন্টিনার গোলের প্রসঙ্গ এসেছে এ কারণেই। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসির প্রথম গোলের আগে আর্জেন্টিনার আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেটিকে ফাউল হিসেবে দেখেননি রেফারি। খেলা চলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

সিবিএফের প্রশ্ন, যদি সেই ঘটনায় মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা যায়, তাহলে ভিনিসিয়ুসের ঘটনায় কেন ভিডিও সহকারী রেফারি হস্তক্ষেপ করল। তাদের মূল দাবি, প্রযুক্তি ব্যবহারে ধারাবাহিকতা থাকতে হবে এবং একই ধরনের ঘটনায় একই ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে।

তবে এই প্রতিবাদে ব্রাজিলের ম্যাচের ফল বদলানোর প্রশ্ন নেই। স্কটল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষে থেকেই শেষ ৩২-এ উঠেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ভিনিসিয়ুস নিজেও পরে আরেক গোল করেন এবং ম্যাচে জোড়া গোল নিয়ে মাঠ ছাড়েন। মাতেউস কুনিয়া করেন ব্রাজিলের অন্য গোলটি।

কিন্তু বাতিল গোলটি ভিনিসিয়ুসের জন্য ব্যক্তিগতভাবেও বড় হতে পারত। গোলটি থাকলে তার হ্যাটট্রিক হতো এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়েও তিনি আরও এগিয়ে যেতেন। সেই কারণেও ঘটনাটি ব্রাজিল শিবিরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ব্রাজিল এখন অবশ্য মাঠের লড়াইয়েই মনোযোগ রাখতে চাইছে। শেষ ৩২-এ তাদের প্রতিপক্ষ জাপান। গ্রুপ ‘এফ’-এ দ্বিতীয় হয়ে শেষ ৩২-এ ওঠা জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে সোমবার হিউস্টনে। নকআউটের আগে নেইমারের ফেরা, ভিনিসিয়ুসের ফর্ম এবং আনচেলত্তির অধীনে দলের উন্নতি ব্রাজিলের জন্য ইতিবাচক দিক।

তার মধ্যেই ভিডিও সহকারী রেফারি নিয়ে এই প্রতিবাদ ফিফার টেবিলে গেল। এখন দেখার বিষয়, ফিফা ব্রাজিলের অভিযোগকে কীভাবে নেয় এবং টুর্নামেন্টের বাকি অংশে একই ধরনের ঘটনায় রেফারিং মানদণ্ড কতটা ধারাবাহিক থাকে।