ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়ের সুযোগ দেখছে জাপান

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়ের সুযোগ দেখছে জাপান
জাপান দল। ছবি: সংগৃহীত

শেষ ৩২-এ প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। নামের ভার, ইতিহাস, তারকায় ভরা দল, সবই জাপানের বিপক্ষে। তবু নকআউটের আগে আত্মবিশ্বাসী এশিয়ার দলটি। জাপান কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর বিশ্বাস, নিজেদের পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষেও সুযোগ থাকবে তার দলের।

Advertisement

গ্রুপ ‘এফ’-এর শেষ ম্যাচে সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে জাপান। দাইজেন মায়েদার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। পরে অ্যান্থনি এলাঙ্গার গোলে সমতা ফেরায় সুইডেন। এই ড্রই জাপানকে ব্রাজিলের সামনে এনে দিয়েছে। আগামী সোমবার হিউস্টনে শেষ ৩২-এ মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও জাপান।

ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মোরিয়াসু। তার মতে, ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, তাদের প্রতি জাপানের পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। তবে জাপানও শুধু লড়াই করে ফিরে আসতে চায় না। সুযোগ পেলে ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে তারা।

মোরিয়াসু বলেন, ‘আগের ম্যাচে আমরা ব্রাজিলকে দেখিয়েছি, আমরা সহজ প্রতিপক্ষ নই। এটা আমাদের জন্য বড় অগ্রগতি। ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ দলগুলোর একটি, আমরা তাদের অনেক সম্মান করি। তবে ম্যাচে কী হবে কেউ জানে না। আমাদেরও জয়ের সুযোগ থাকবে।’

জাপানের আত্মবিশ্বাসের পেছনে আছে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাও। গত অক্টোবরে টোকিওতে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল তারা। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে পাওয়া সেই জয় ছিল ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের প্রথম জয়। মোরিয়াসুর চোখে সেটিই প্রমাণ করে, বড় দলের বিপক্ষে এখন আর জাপান শুধু প্রতিরোধ গড়তে নামে না।

সুইডেনের বিপক্ষে ড্র নিয়েও মোরিয়াসুর অনুভূতি মিশ্র। এগিয়ে যাওয়ার পর গোল খাওয়ায় হতাশ ছিলেন তিনি। তবে সমতা ফেরার পর ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে পয়েন্ট ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত সেটিই জাপানকে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে দেয়।

জাপানের জন্য সামনে এখন বড় পরীক্ষা। গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষ দল ব্রাজিল গ্রুপ পর্বে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন। মাতেউস কুনিয়াও ছন্দে আছেন। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে নেইমারের মাঠে ফেরাও নকআউটের আগে ব্রাজিলকে বাড়তি বিকল্প দিয়েছে।

তবে জাপানও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। তাদের শক্তি শৃঙ্খলা, দ্রুত পাসিং, দলগত চাপ প্রয়োগ এবং দ্রুত আক্রমণে। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচেও তারা পরিকল্পিত আক্রমণে গোল করেছে। শেষ দিকে গোলরক্ষক জিওন সুজুকির সেভও দলকে ম্যাচে রাখে। নকআউটে এই শৃঙ্খলা ও মনোযোগই ব্রাজিলের বিপক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

মোরিয়াসু জাপানের এই অগ্রগতিকে শুধু একটি দলের সাফল্য হিসেবে দেখছেন না। তার মতে, নকআউটে ওঠা জাপানি ফুটবলের উন্নতির প্রমাণ। একই সঙ্গে এশিয়ান ফুটবলের জন্যও এটি বড় বার্তা। বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভয় না পেয়ে নিজের ফুটবল খেলতে পারাই এখন জাপানের লক্ষ্য।

শেষ ৩২-এর এই ম্যাচ তাই শুধু ব্রাজিলের জন্য নকআউট পরীক্ষা নয়, জাপানের জন্য নিজেদের বিশ্বাস প্রমাণের সুযোগও। ইতিহাস ব্রাজিলের পক্ষে, কিন্তু সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস জাপানকে সাহস দিচ্ছে। হিউস্টনে দেখা যাবে, সেই বিশ্বাস মাঠে কতটা বাস্তব হয়।