সুপারফুড হলেও চিয়া সিড যে চার ধরনের মানুষের জন্য বিপজ্জনক

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
সুপারফুড হলেও চিয়া সিড যে চার ধরনের মানুষের জন্য বিপজ্জনক
ছবি : সংগৃহীত

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিয়া সিড সুপারফুড হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ছোট এই বীজে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। এতে আছে ভিটামিন বি১, প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অনেক পুষ্টিবিদ ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য ভিজিয়ে রাখা চিয়া সিড খাওয়ার পরামর্শ দেন।

Advertisement

এ ছাড়া চিয়া সিডে থাকা বিভিন্ন উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং এটি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে মনে করা হয়। তবে সব খাবারের মতো চিয়া সিডও সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি খাওয়ার আগে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে

চিয়া সিডে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। সাধারণভাবে এটি হজমের জন্য ভালো হলেও, যাদের আগে থেকেই হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) ও দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা রয়েছে তাদের চিয়া সিড খেলে পেটব্যথা, পেটে মোচড়, গ্যাস, পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মার্কিন পুষ্টিবিদ অবনি কৌলের পরামর্শ, যাদের হজমের সমস্যা আছে তারা অল্প পরিমাণে চিয়া সিড খাবেন এবং অবশ্যই আগে পানিতে ভিজিয়ে নেবেন। এতে হজম সহজ হয়।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি বা যারা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ খান

চিয়া সিড রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এর ফাইবার খাবারের শর্করা ধীরে ধীরে শোষিত হতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু মানুষের রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে, যা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ, ইনসুলিন ব্যবহার করেন তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিয়া সিড খাওয়া উচিত এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

যারা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খান

চিয়া সিডে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে এই উপাদান রক্তচাপ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে যারা ইতোমধ্যে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিয়া সিড রক্তচাপ আরও কমিয়ে দিতে পারে।

এর ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। অবনি কৌলের মতে, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিয়া সিড খাওয়া উচিত।

যাদের অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে

যদিও চিয়া সিডে অ্যালার্জি খুব বেশি দেখা যায় না, তবুও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে।

সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • ত্বকে লালচে ভাব
  • চুলকানি বা র‍্যাশ
  • বমি বমি ভাব
  • বমি
  • ত্বকে জ্বালাপোড়া

প্রথমবার চিয়া সিড খেলে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা ভালো। কোনো অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চিয়া সিড খাওয়ার সঠিক উপায়

যাদের কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই, তাদের জন্যও কিছু নিয়ম মেনে চিয়া সিড খাওয়া ভালো। প্রতিদিন ১ থেকে ২ টেবিল চামচ চিয়া সিড সাধারণত যথেষ্ট। চিয়া সিড পানিতে ভিজিয়ে খেলে এটি ফুলে যায় এবং হজম করা সহজ হয়। এতে পেটের অস্বস্তির ঝুঁকিও কমে।

খেয়াল রাখবেন, চিয়া সিড অনেক পানি শোষণ করে। তাই এটি খাওয়ার সময় সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

বিশেষ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

যাদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ রয়েছে, যেসব নারীর গর্ভাবস্থা চলছে ও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তাদের নতুন কোনো খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় যোগ করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চিয়া সিড পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার এবং বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের জন্য এটি নিরাপদ। তবে কোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়।

যদি আপনার হজমের সমস্যা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অ্যালার্জির ইতিহাস থাকে, তাহলে চিয়া সিড খাওয়ার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকুন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সঠিক পরিমাণে ও সঠিকভাবে খেলে চিয়া সিড স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি উপকারী অংশ হতে পারে।

সূত্র: হেলথ শটস