লোকসানের শঙ্কায় মানিকগঞ্জের তামাক চাষিরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, মানিকগঞ্জ
লোকসানের শঙ্কায় মানিকগঞ্জের তামাক চাষিরা
তামাকের আটি বাঁধছেন চাষীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

অধিক লাভের আশায় তামাক চাষ করেছিলেন মানিকগঞ্জের হাজারো কৃষক। কিন্তু মৌসুম শেষে উৎপাদিত তামাক বিক্রি করতে না পেরে এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ, চাষের শুরুতে বিভিন্ন কোম্পানি চুক্তিভিত্তিক চাষে উৎসাহ দিলেও ফসল ঘরে তোলার পর তামাক কিনতে নানা অজুহাতে গড়িমসি করছে। অনেক ক্ষেত্রে মান, রং ও আর্দ্রতার কথা বলে তামাক ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জে আশির দশকে সীমিত আকারে তামাক চাষ শুরু হলেও গত কয়েক দশকে এর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। বিশেষ করে সদর ও সাটুরিয়া উপজেলায় তামাকের আবাদ বেশি হয়েছে। কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বীজ, সার, ঋণসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা এবং অধিক লাভের প্রলোভনে অনেক কৃষক এ চাষে যুক্ত হয়েছেন।

সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লি ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, কোম্পানির লোকজন চাষের শুরুতে আমাদের অনেক আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এখন তামাক নিয়ে গেলে কখনও রঙের সমস্যা, কখনও আর্দ্রতার সমস্যা দেখিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছে। কয়েক মাসের পরিশ্রমের ফল ঘরে পড়ে আছে, কী করব বুঝতে পারছি না।

একই উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তামাক চাষ করতে ঋণ নিতে হয়েছে। কোম্পানি যদি সময়মতো তামাক না কেনে, তাহলে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করব কীভাবে? বাধ্য হয়ে অনেক কম দামে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার কৃষক মো. শাহাদত হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে তামাক চাষ করতে অনেক খরচ হয়েছে। কোম্পানি তামাক নিচ্ছে না, আবার বাজারেও ভালো দাম নেই। এখন উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, সেটাই বড় চিন্তা।

অভিযোগের বিষয়ে তামাক ক্রয়কারী একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এদিকে কোম্পানির কাছে তামাক বিক্রি করতে না পেরে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে স্থানীয় ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে কম দামে পণ্য বিক্রি করছেন। এতে উৎপাদন খরচ ওঠানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ ঋণের বোঝা নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, কোম্পানির কাছ থেকে তামাক ফেরত আসার সুযোগে মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে তামাক কিনে পরে বেশি দামে বিভিন্ন বিড়ি ও তামাক কোম্পানির কাছে বিক্রি করছে। ফলে উৎপাদনের পুরো ঝুঁকি বহন করেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জে ৩৫৫ হেক্টর জমিতে তামাকের আবাদ হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে এর পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।