গোপনে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে বিএনপি নেতাকে সভাপতি করার অভিযোগ

বান্দরবান পৌরসভার ছয় নম্বর ওয়ার্ডের ছিদ্দিকীনগর খাদিজা অহিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গোপনে গঠন করে মুসলিম উদ্দীন নামে এক বিএনপি নেতাকে সভাপতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মুসলিম উদ্দীন বান্দরবান জেলার ‘জিয়া মঞ্চ’র সাবেক সভাপতি। বিদ্যালয়ের নতুন স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়টি বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয়দের নজরে আসে। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশীজনদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. আলাউদ্দিন বলেন, আমার মেয়ে এই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। অথচ স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে আমাকে কোনোভাবেই জানানো হয়নি। একজন অভিভাবক হিসেবে বিষয়টি জানতে না পারা খুবই দুঃখজনক।
পারভিন আক্তার নামে আরেক অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, অথচ আমরা কিছুই জানি না। আমাদের বাসা বিদ্যালয়ের খুব কাছেই। কী উদ্দেশ্যে গোপনে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে তা রহস্যজনক। বিদ্যালয়ের স্বার্থে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক কমিটি গঠন হওয়া প্রয়োজন ছিল।
এলাকার বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে কমিটি গঠনের আগে অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের মতামত নেওয়া জরুরি ছিল। বর্তমান কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দ্রুত এই কমিটি স্থগিত করে তদন্ত করা উচিত।
এ বিষয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি মুসলিম উদ্দীন বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের ডেকেই কমিটি গঠন করেছে। এখানে আমার কোনো ভূমিকা নেই। তবে কতজন অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন বা কীভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্চিতা তালুকদার বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিভাবকদের অবহিত করেই সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত ব্যক্তির সন্তান বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার সন্তান কয়েকদিন আগে অন্য বিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিয়ে আমাদের বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে।
বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এমদাদ হোসেন বলেন, কমিটি গঠনের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করা হবে। কমিটি গঠনে অনিয়ম বা অস্বচ্ছতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনে কমিটি বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।





