জার্মানিকে হারিয়ে ইকুয়েডরে জাতীয় ছুটি ঘোষণা

জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে ইকুয়েডর। সেই সাফল্যের আনন্দে দেশে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া। গ্রুপ ‘ই’-এর শেষ ম্যাচে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে ধন্যবাদ জানান প্রেসিডেন্ট নোবোয়া। সমালোচনা, অপমান ও কঠিন সময় পেরিয়ে পুরো দেশকে আনন্দ দেওয়ার জন্য দলের প্রশংসা করেন তিনি। এরপরই ঘোষণা দেন, শুক্রবার ইকুয়েডরে ছুটি থাকবে।
ইকুয়েডরের জন্য ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হারের পর কুরাসাওয়ের সঙ্গে ড্র করেছিল তারা। তাই জার্মানির বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া শেষ ৩২-এ ওঠার পথ কঠিন ছিল। অন্যদিকে জার্মানি আগেই গ্রুপসেরা হিসেবে পরের পর্ব নিশ্চিত করেছিল।
নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শুরুটা ইকুয়েডরের পক্ষে ছিল না। ম্যাচের ২ মিনিটেই লেরয় সানের গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। তবে চাপের মুখে ভেঙে পড়েনি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ৯ মিনিটে নিলসন আঙ্গুলো সমতা ফেরান। এরপর ৭৭ মিনিটে গনসালো প্লাতার গোলে এগিয়ে যায় ইকুয়েডর।
শেষ দিকে জার্মানি চাপ বাড়ালেও ব্যবধান ধরে রাখে ইকুয়েডর। শেষ বাঁশির পর স্টেডিয়ামে থাকা ইকুয়েডর সমর্থকেরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানির মতো দলের বিপক্ষে এমন জয় দেশটির ফুটবল ইতিহাসে বড় অর্জন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
গ্রুপ ‘ই’-তে জার্মানি শীর্ষে থেকে শেষ ৩২-এ উঠেছে। কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে আইভরি কোস্ট। আর ইকুয়েডর তৃতীয় হয়েও সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে।
বিশ্বকাপের নকআউটে ইকুয়েডরের ওঠা নিয়মিত ঘটনা নয়। এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে শেষ ১৬-এ উঠেছিল তারা। জার্মানির মাটিতে সেই সাফল্যের ২০ বছর পর আবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল ইকুয়েডর। এবারও জার্মানির বিপক্ষের ম্যাচেই তৈরি হলো নতুন ইতিহাস।
ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের জন্যও জয়টি বিশেষ। টুর্নামেন্টের শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়েছিল তার দল। কিন্তু শেষ ম্যাচে জার্মানিকে হারিয়ে সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছে তারা। ম্যাচ শেষে তিনি এই জয়কে ইকুয়েডরের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ের একটি হিসেবে দেখেছেন।
ইকুয়েডরের সামনে এখন শেষ ৩২-এর পরীক্ষা। তবে তার আগে দেশজুড়ে উদ্যাপনের উপলক্ষ এনে দিয়েছে এই জয়। প্রেসিডেন্টের জাতীয় ছুটি ঘোষণাই বুঝিয়ে দিচ্ছে, জার্মানির বিপক্ষে এই সাফল্য ইকুয়েডরের কাছে শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের জয় নয়, জাতীয় উৎসবের মুহূর্ত।






