পিংকএশিয়া ফিল্ম সোসাইটির আত্মপ্রকাশ

চলচ্চিত্রকে শিল্প, অনুভূতি এবং সামাজিক পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে পিংকএশিয়া ফিল্ম সোসাইটি। ‘ফিল্ম. ফিল. ইনস্পায়ার. (চলচ্চিত্র। অনুভব। অনুপ্রেরণা)”—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে সংগঠনটি দেশে একটি সৃজনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্রচর্চার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মো. মেহেদী হাসানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও নিরলস প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর পিংকএশিয়ার যাত্রা শুরু হয়। প্রথমদিকে এটি চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা, বিশ্লেষণ, সমালোচনা ও চর্চার একটি অনানুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করলেও, সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক উদ্যোগ এবং দর্শকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত চলচ্চিত্র আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে তোলে। দীর্ঘ এই পথচলার পর ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় পিংকএশিয়া ফিল্ম সোসাইটি।
সম্প্রতি সংগঠনটির প্রথম নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মেহেদী হাসান, ভাইস-চেয়ারপারসন আফরোজা সুলতানা, সেক্রেটারি জেনারেল ফাতেমা আক্তার, জয়েন্ট সেক্রেটারি কপোতাক্ষী নূপুরমা সিঞ্চি, ডেপুটি সেক্রেটারি দিদারুল আলম, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মো. নাজমুল হুসাইন এবং এক্সিকিউটিভ মেম্বার আকিদা খাতুন লতা।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন স্বপর্যা আকাশ লীনা মৌনি, মির্জা মো. জাহিদ হাসান, মোশফেক আরা, তনিমা সুলতানা, এইচ. এম. মনজুরুল হক মুরাদ, ঐশী রায়, আফিয়া তাবাসসুম নওসিন, তামিম খান, মেহরান সানজানা, সাফিয়া নূর মোকাররমা, এ. টি. এম. মোখলেছুর রহমান, গুলশান আরা বন্য, শিফাত বন্যা এবং তাসফিয়া আজাদ মিথিলা।
পিংকএশিয়া ফিল্ম সোসাইটির লক্ষ্য চলচ্চিত্রকে কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প, সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক সচেতনতার এক কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংগঠনটি নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, কর্মশালা, সেমিনার, চলচ্চিত্রবিষয়ক আলোচনা, রেট্রোস্পেকটিভ, স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, গবেষণাধর্মী কার্যক্রম এবং নবীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র সংগঠন, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সংগঠনটি বাংলাদেশ–জার্মান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এর ফেস্টিভ্যাল পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশ, জার্মানি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতা, কিউরেটর, গবেষক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিনিময় জোরদারে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, যৌথ প্রযোজনা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘পিংকএশিয়া ফিল্ম সোসাইটি এমন একটি মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এটি চিন্তা, অনুভূতি, শিক্ষা এবং সামাজিক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা। আমরা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বিশ্বদরবারে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে চাই এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের সৃজনশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাব।’
সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এমন একটি চলচ্চিত্র সম্প্রদায় গড়ে তোলা, যেখানে নতুন ও অভিজ্ঞ নির্মাতারা একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের চর্চা আরও বিস্তৃত করাই পিংকএশিয়া ফিল্ম সোসাইটির অন্যতম অঙ্গীকার।’
প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য তনিমা সুলতানা বলেন, ‘পিংকএশিয়া ফিল্ম সোসাইটি কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রপ্রেমী ও নির্মাতাদের জন্য একটি স্বপ্নের প্ল্যাটফর্ম। আমি বিশ্বাস করি, এই সংগঠন দেশীয় চলচ্চিত্রচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিবাচক পরিচিতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
এদিকে দেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার লক্ষ্যে পিংকএশিয়া ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের (বিএফএফএস) সদস্যপদ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। একই সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে নিবন্ধন গ্রহণের উদ্দোগ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর খুব শিগগিরই সংগঠনটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পিংকএশিয়া ফিল্ম সোসাইটি একটি স্বীকৃত, দায়িত্বশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র সংগঠন হিসেবে নিজেদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে চায়। ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন, চলচ্চিত্র শিক্ষা ও গবেষণা, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক বিনিময়, স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার প্রসার এবং তরুণ নির্মাতাদের দক্ষতা উন্নয়নে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের সকল চলচ্চিত্রপ্রেমী, নির্মাতা, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিকর্মীদের পিংকএশিয়া ফিল্ম সোসাইটির কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়ে একটি সমৃদ্ধ, সৃজনশীল এবং আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।





