স্পেনের কাছে হেরে বিদায় উরুগুয়ের

একটি ভুলই শেষ পর্যন্ত উরুগুয়ের বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ধারণ করে দিল। আলেক্স বায়েনার তুলনামূলক সহজ শট ফার্নান্দো মুসলেরার হাত ফসকে জালে জড়াল, আর সেই গোলেই স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল উরুগুয়ে। গ্রুপ ‘এইচ’-এর শীর্ষে থেকে শেষ ৩২ নিশ্চিত করল স্পেন।
ম্যাচটি স্পেন জিতেছে, তবে পারফরম্যান্সে খুব বেশি স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। বলের দখল থাকলেও ছন্দ, গতি ও ধারালো আক্রমণের অভাব ছিল স্পেনের খেলায়। তবু বায়েনার গোল এবং উরুগুয়ের গোলরক্ষকের বড় ভুল তাদের গ্রুপসেরা হওয়ার পথ পরিষ্কার করে দেয়।
উরুগুয়ের জন্য ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার। শেষ ৩২-এর আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প ছিল না মার্সেলো বিয়েলসার দলের সামনে। শুরুতেও সেই তাগিদ দেখা যায় তাদের খেলায়। ডারউইন নুনিয়েজের চাপ, ম্যাক্সি আরাউহো ও আগুস্তিন কানোবিওর দৌড়ে স্পেনের আক্রমণ গড়ে তোলার পথে চাপ তৈরি করছিল উরুগুয়ে।
স্পেন ধীরে ধীরে চাপ সামলে উঠলেও তাদের খেলায় আগের ধার দেখা যায়নি। রদ্রি মাঝমাঠে স্বাভাবিক প্রভাব রাখতে পারেননি। পেদ্রি ও লামিনে ইয়ামালের কাছ থেকেও বড় কিছু আসেনি। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে শারীরিক লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখে দানি ওলমোকে বেঞ্চে রেখে মার্কোস ইয়োরেন্তে ও মিকেল মেরিনোকে একাদশে রাখেন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৪২ মিনিটে বক্সের ভেতর জায়গা পেয়ে নিচু শট নেন বায়েনা। শটটি খুব জোরালো ছিল না, কোণাও খুব কঠিন ছিল না। কিন্তু অভিজ্ঞ মুসলেরা বল ঠিকমতো ধরতে পারেননি। তাঁর হাত ফসকে বল জালে যায়। স্তব্ধ হয়ে যায় উরুগুয়ে।
গোলের সময় ঘিরে বিতর্কও ছিল। ওই সময় ম্যানুয়েল উগার্তে ও লামিনে ইয়ামাল দুজনই মাঠে পড়ে ছিলেন। উরুগুয়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়, কিন্তু গোল বাতিল হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই উগার্তেকে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। এতে উরুগুয়ের ধাক্কা আরও বড় হয়।
বিরতির পর মুসলেরাকেও আর মাঠে দেখা যায়নি। তাঁর জায়গায় নামেন সের্হিও রোচেত। গোলরক্ষক বদল যেন উরুগুয়ের রাতের প্রতীক হয়ে থাকে। অভিজ্ঞ মুসলেরার ভুল শুধু ম্যাচের ফলেই নয়, উরুগুয়ের পুরো বিশ্বকাপ অভিযানের ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে গেল।
দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ে চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেই চেষ্টা ক্রমেই পরিণত হয় অস্থিরতায়। ম্যাচে ফাউল বাড়তে থাকে, উত্তেজনাও বাড়ে। স্পেনও খুব একটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। দানি ওলমো নামার পর কিছুটা গতি এলেও স্পেন নিজেদের সেরা রূপ দেখাতে পারেনি।
উরুগুয়ে সমতা ফেরানোর সুযোগ খুঁজেছে শেষ পর্যন্ত। তবে শেষ পাস ও শেষ শটে যথেষ্ট ধার ছিল না। স্পেনের রক্ষণ এবং উনাই সিমনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপ তাদের আটকে দেয়। অন্যদিকে ৮৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের শট ক্রসবারে লাগে। সেটি ঢুকলে স্পেনের জয় আরও পরিষ্কার হতে পারত।
যোগ করা সময়ে ম্যাচ আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। পাউ কুবারসির ওপর কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্য লাল কার্ড দেখেন আগুস্তিন কানোবিও। তখনই পরিষ্কার হয়ে যায়, উরুগুয়ের রাত শেষ। কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ বাঁশি বাজে, আর দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ অভিযান গ্রুপ পর্বেই থেমে যায়।
গ্রুপ ‘এইচ’-এ ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে স্পেন। তিন ম্যাচে তিন ড্রয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে কেপ ভার্দে। উরুগুয়ে ও সৌদি আরব দুদলই ২ পয়েন্টে থেমে বিদায় নিয়েছে।
স্পেনের জন্য জয়টি ফলাফলের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শেষ ৩২-এর আগে পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেল। এখন থেকে আর ভুলের সুযোগ নেই। রদ্রির স্থিরতা, পেদ্রির সৃজনশীলতা, লামিনে ইয়ামালের ঝলক—সবই আবার দরকার হবে স্পেনের।
উরুগুয়ের জন্য রাতটি হতাশার। জয় দরকার ছিল, তারা লড়াই করেছে, কিন্তু এক ভুল এবং এক অস্থির দ্বিতীয়ার্ধ তাদের পথ বন্ধ করে দিল। আর স্পেন, খুব উজ্জ্বল না হয়েও, গ্রুপসেরা হয়ে এগিয়ে গেল শেষ ৩২-এর কঠিন পরীক্ষায়।





