হলান্ড-এমবাপ্পে দ্বৈরথ হলো না, দেম্বেলের ঝড়ে ফ্রান্সের জয়

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
হলান্ড-এমবাপ্পে দ্বৈরথ হলো না, দেম্বেলের ঝড়ে ফ্রান্সের জয়
ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন দেম্বেলে। ছবি: সংগৃহীত


বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি হওয়ার কথা ছিল ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচ। কিলিয়ান এমবাপ্পে বনাম আর্লিং হলান্ড, এই দ্বৈরথ ঘিরে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই লড়াই আর হলো না। হালান্ড এক মিনিটও খেললেন না, আর মাঠে ফ্রান্সকে উড়িয়ে দিলেন ওসমান দেম্বেলে।

Advertisement

বোস্টন স্টেডিয়ামে নরওয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘আই’ সেরা হয়েছে ফ্রান্স। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করে ম্যাচের গল্প লিখে দেন দেম্বেলে। ফ্রান্সের অন্য গোলটি করেন দেজিরে দুয়ে। নরওয়ের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন থেলো আসগার্ড।

নরওয়ে কোচ স্তোলে সোলবাকেন ম্যাচের আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বড় রোটেশন আসতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়েছে। হলান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড, আলেক্সান্ডার সরলথসহ বেশ কয়েকজন নিয়মিত ফুটবলার ছিলেন না একাদশে। নকআউট পর্বের আগে মূল খেলোয়াড়দের সতেজ রাখাকেই অগ্রাধিকার দেয় নরওয়ে।

ফলে যে ম্যাচে হলান্ড-এমবাপ্পের মুখোমুখি লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সমর্থকেরা, সেটি শুরুতেই রং হারায়। তবে ফ্রান্স সেই সুযোগ ছাড়েনি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তোলে দিদিয়ের দেশমের দল।

দেশম অবশ্য এই ম্যাচে বেঞ্চে ছিলেন না। মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দলের ক্যাম্প ছেড়ে তাকে ফ্রান্সে ফিরতে হয়েছিল। তার অনুপস্থিতিতে সহকারী কোচ গি স্তেফাঁ দায়িত্ব সামলান। প্রধান কোচকে ছাড়াই ফ্রান্স মাঠে নেমেছিল, কিন্তু খেলায় তার কোনো প্রভাব পড়েনি।

খেলা শুরু হতেই ফ্রান্স বুঝিয়ে দেয়, তারা কোনো ছাড় দেবে না। প্রথম মিনিটে এমবাপ্পের শক্তিশালী শট ক্রসবারে লাগে। কিছুক্ষণ পর মানু কোনে সুযোগ তৈরি করেন। চাপের সেই ধারাবাহিকতাতেই গোল পায় ফ্রান্স এমবাপ্পের পাস থেকে বক্সের প্রান্তে জায়গা পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে নরওয়ে গোলরক্ষক এগিল সেলভিককে পরাস্ত করেন দেম্বেলে।

গোলের পরও থামেনি ফ্রান্স। এমবাপ্পে আবারও দেম্বেলেকে খুঁজে নেন। প্রায় একই জায়গা থেকে আবারও নিচু শটে বল জালে পাঠান ফরাসি ফরোয়ার্ড। নরওয়ের রক্ষণ তখন অগোছালো, আর ফ্রান্স বারবার সেই ফাঁক কাজে লাগাচ্ছে।

নরওয়ে অবশ্য দ্রুত ম্যাচে ফেরার আভাস দেয়। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের পাস থেকে থেলো আসগার্ড বক্সে ঢুকে মাইক মাইনিয়াকে পরাস্ত করেন। গোলটি নরওয়ের জন্য ক্ষণিকের স্বস্তি এনে দেয়। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।

৩২ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দেম্বেলে। আবারও ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে একই কোণ খুঁজে নেন তিনি। দ্রুত গতি, জায়গা নেওয়ার বুদ্ধি ও নিখুঁত শটে নরওয়ে রক্ষণকে বারবার অসহায় করে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

বিরতির আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ফ্রান্সের হাতে চলে যায়। নরওয়ের রোটেশন পরিকল্পনা তখন রক্ষণাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে, আর ফ্রান্স নিজেদের আক্রমণশক্তির ভয় দেখিয়ে দিচ্ছে বাকি দলগুলোকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নরওয়ের সামনে সুযোগ এসেছিল ব্যবধান কমানোর। পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেনের শট ঠেকিয়ে দেন মাইনিয়া। প্রথমার্ধে আসগার্ডের গোলে কিছুটা দায় থাকলেও পেনাল্টি সেভ করে সেটি অনেকটাই পুষিয়ে দেন ফ্রান্স গোলরক্ষক।

এরপর এমবাপ্পে গোলের খোঁজে ছিলেন। তার জন্য রাতটি গোলের ছিল না, কিন্তু প্রভাব ছিল স্পষ্ট। প্রথমার্ধে দেম্বেলের দুটি গোলে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি, নিজেও কয়েকবার চেষ্টা করেন। তবে গোল পাননি।

দেম্বেলে ঘণ্টাখানেকের মাথায় মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারি থেকে করতালি পান। তার জায়গায় নামেন রায়ান শেরকি। ফ্রান্সের এই দলে জায়গা পেতে কতটা প্রতিযোগিতা, সেটিও আরেকবার বোঝা গেল।

অন্যদিকে হলান্ড বেঞ্চেই বসে থাকেন। নরওয়ের সমর্থক তো বটেই, ফরাসি দর্শকদের একাংশও তাঁকে দেখতে চাইছিল। কিন্তু সোলবাকেন ঝুঁকি নেননি। নকআউটের আগে নিজের সবচেয়ে বড় তারকাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তিনি।

শেষ দিকে ফ্রান্স আরও একটি গোল পায়। যোগ করা সময়ে ব্র্যাডলি বারকোলার ক্রস থেকে হেডে গোল করেন দেজিরে দুয়ে। ততক্ষণে ম্যাচের ফল অনেক আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে।