নোবিপ্রবিতে চাঁদাবাজি নিয়ে শিবির-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, চ্যালেঞ্জ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নোয়াখালী
নোবিপ্রবিতে চাঁদাবাজি নিয়ে শিবির-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, চ্যালেঞ্জ
ইনসেটে বাঁয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও ডানে নোবিপ্রবি শিবিরের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রোগ্রামের টি-শার্টের বাজেট ও সাইনেজ নির্মাণকাজে ঠিকাদার থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাদানুবাদ ও পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জে জড়িয়ে পড়েছেন ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতারা।

Advertisement

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলামের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

সরাসরি কোনো সংগঠনের নাম উল্লেখ না করে একটি ‘বিশেষ গোষ্ঠী'র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আরিফুল ইসলাম পোস্টে লেখেন, ‘শুনলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর টি-শার্টের বাজেট থেকে নাকি একটি বিশেষ গোষ্ঠী এক ধাক্কায় ১২ লক্ষ টাকা ‘জয় বাংলা’ (গায়েব) করে দিয়েছে! এখানেই শেষ নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের ফন্ট সাইনেজের (Font Signage) কাজ পাওয়া ঠিকাদারের কাছ থেকে নাকি এক ছাত্রনেতা মোটা অঙ্কের টাকা কমিশন খেয়েছেন।’

পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘অতীতের বিভিন্ন দুর্নীতির নথিপত্র এবং বর্তমানের এই সমস্ত কীর্তিকলাপ যখন একসাথে প্রমাণসহ শিক্ষার্থীদের সামনে আসবে, তখন ক্ষমতার লোভে অন্ধ তথাকথিত “বয়োজ্যেষ্ঠ” ছাত্রনেতারা শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে ক্যাম্পাস থেকে সম্মান নিয়ে বের হতে পারবেন না।’

শিবির নেতার এই পোস্টের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান নোবিপ্রবি ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি জাহিদ হাসান। আরিফুল ইসলামের পোস্টের কমেন্টে এবং পরে ফেসবুকে নিজের আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগকে 'অপপ্রচার ও গুজব' বলে আখ্যা দেন।

জাহিদ হাসান তার পোস্টে লেখেন, ‘শিবিরের সাবেক সভাপতি আরিফুল গুপ্তচরবৃত্তির রাজনীতি করত, তার তথ্যপ্রমাণ আমার কাছে রয়েছে...এই পোস্টের মাধ্যমে বলতে চাই—শিবিরের এই সাবেক সভাপতি গুজব ছড়ানোতেও পারদর্শী।’

শিবির নেতাকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘মাশাল্লাহ, মুনাফেক গুজববাজ আরিফুল, তুমি যদি টি-শার্ট এবং সাইনেজের কাজের ব্যাপারে যে অভিযোগ তুলেছ তার প্রমাণ দিতে না পারো, তোমাকে হাত-পা বেঁধে প্রক্টরের মাধ্যমে পুলিশের হাতে সোপর্দ করব ইনশাল্লাহ।’

পোস্টে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা শিবিরের সাংগঠনিক কৌশল দাবি করে তিনি শিক্ষাঙ্গনে সত্য ও ইতিবাচক রাজনীতির চর্চার আহ্বান জানান।

শিবির নেতার তোলা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনও। তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে টি-শার্টের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এক টাকাও বাজেট বরাদ্দ ছিল না। উপাচার্য বাজেট নেই জানানোর পর নোবিপ্রবি ছাত্রদলের উদ্যোগে স্পন্সর সংগ্রহ করে টি-শার্টের ব্যবস্থা করা হয়। এর সমস্ত আর্থিক লেনদেন স্পন্সরদাতা ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে।’

সাইনেজ বিতর্কের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফন্ট সাইনেজের বিষয়ে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী এক পয়সাও নেননি। উল্টো এই বিষয়ে সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন নোবিপ্রবি ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক।’

হাসিবুল হোসেন শিবির নেতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘উল্লিখিত দুটি অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে আমরা নিজেরাই দায়িত্ব নিয়ে দোষীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করব। আর যদি অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তাহলে আরিফ ভাই আপনি প্রকাশ্যে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইবেন।’

এদিকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও চ্যালেঞ্জের জেরে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই আর্থিক লেনদেন ও বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।