বিশ্বকাপ অভিষেকেই কেপ ভার্দের ইতিহাস

গোল হলো না, তবু ইতিহাস হয়ে গেল। সৌদি আরবের সঙ্গে ০-০ গোলে ড্র করেই বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে অভিষেকেই নকআউটে উঠে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি তৈরি করল অবিশ্বাস্য গল্প। গ্রুপ ‘এইচ’-এ তিন ম্যাচে তিন ড্র নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে তারা। সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা, শেষ ৩২-এ প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
কেপ ভার্দে এখন বিশ্বকাপের শেষ ৩২ দলের একটি। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বকাপ অভিষেকেই নকআউটে উঠে তারা এখন খেলবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। রূপকথার মতো পথচলার পর ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির সামনে এবার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পরীক্ষা।
হিউস্টনে সৌদি আরবের সঙ্গে ০-০ গোলে ড্র করেই ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপ ‘এইচ’-এ তিন ম্যাচের তিনটিতেই ড্র করে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছে তারা। স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র, উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ ড্র, এরপর সৌদি আরবের বিপক্ষে আরেক গোলশূন্য ড্র। জয়ের দেখা না পেলেও হারেনি তারা। সেই অপরাজিত পথই তাদের নিয়ে গেছে শেষ ৩২-এ।
একই সময়ে অন্য ম্যাচে স্পেন ১-০ গোলে হারিয়েছে উরুগুয়েকে। সেই ফলই কেপ ভার্দের কাজ আরও সহজ করে দেয়। গ্রুপে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে স্পেন, ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় কেপ ভার্দে। উরুগুয়ে ও সৌদি আরব ২ পয়েন্টে থেমে বিদায় নিয়েছে।
সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে কেপ ভার্দের লক্ষ্য ছিল পরিষ্কার। অন্তত এক পয়েন্ট নিতে হবে, এরপর তাকিয়ে থাকতে হবে স্পেন-উরুগুয়ে ম্যাচের দিকে। শেষ পর্যন্ত দুটো হিসাবই তাদের পক্ষে গেছে। নিজেদের ম্যাচে রক্ষণ ধরে রেখেছে, আর অন্য মাঠে উরুগুয়ে হারায় ইতিহাসের দরজা খুলে গেছে ‘ব্লু শার্কস’দের সামনে।
ম্যাচটি অবশ্য শুধু রক্ষণে দাঁড়িয়ে থেকে কাটায়নি কেপ ভার্দে। স্পেনের বিপক্ষে যেমন বেশি সময় রক্ষণে থাকতে হয়েছিল, সৌদি আরবের বিপক্ষে তারা ছিল তুলনামূলক খোলা ও সাহসী। বলের দখল, দ্রুত আক্রমণ এবং দুই প্রান্ত ব্যবহার করে একাধিকবার সৌদি রক্ষণকে চাপে ফেলেছে তারা।
সৌদি আরবও জানত, জিততেই হবে। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টের মতো এই ম্যাচেও আক্রমণে ধার খুঁজে পায়নি তারা। শুরুর দিকে সালেম আল-দাওসারিদের কিছু চেষ্টা থাকলেও কেপ ভার্দের সংগঠিত রক্ষণ এবং অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার সামনে সেগুলো বড় বিপদ হয়ে উঠতে পারেনি।
উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে জয়ের কাছেও যেতে পারত কেপ ভার্দে। লারোস দুয়ার্তে বল দখল ও আক্রমণ গড়ে তোলায় বড় ভূমিকা রাখেন। শেষ দিকে নুনো দা কস্তার সামনেও বড় সুযোগ এসেছিল। গ্যারি
রদ্রিগেজের পাস থেকে প্রায় খোলা গোলের সামনে বল পেয়েও প্রস্তুত না থাকায় সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।
তবে গোলের দরকার শেষ পর্যন্ত হয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই কেপ ভার্দের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকেরা বুঝে যান, অসম্ভব বলে মনে হওয়া কাজটি তারা করে ফেলেছেন। বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই শেষ ৩২। স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন থাকা গ্রুপ থেকে উঠে আসা। এমন গল্প বিশ্বকাপ খুব বেশি দেয় না।
এই সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। টুর্নামেন্টজুড়ে তাঁর অভিজ্ঞতা, শান্ত উপস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ সেভ কেপ ভার্দেকে বাঁচিয়েছে বারবার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি হয়ে উঠেছেন দলটির প্রতীক। তবে শুধু ভোজিনিয়া নন, পুরো দলই নিজেদের শৃঙ্খলা, সাহস ও সংগঠিত ফুটবলে নজর কেড়েছে।
কেপ ভার্দের জন্য পুরস্কারও বিশাল। শেষ ৩২-এ তাদের সামনে আর্জেন্টিনা। মেসি, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল, বড় মঞ্চ, বিশাল চাপ। কিন্তু কেপ ভার্দে ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে, নামের ভারে তারা ভেঙে পড়ে না। স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করা দলটি এখন আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও নিজেদের গল্প লিখতে চাইবে।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার জন্যও ম্যাচটি একেবারে সহজ ভাবার সুযোগ নেই। কেপ ভার্দে খুব বেশি গোল করে না, কিন্তু প্রতিপক্ষকে হতাশ করতে জানে। রক্ষণে শৃঙ্খলা, মাঝমাঠে পরিশ্রম এবং পাল্টা আক্রমণে দ্রুততা তাদের বড় শক্তি। আর্জেন্টিনাকে তাই শুধু বলের দখল নয়, ধৈর্য ও নিখুঁত ফিনিশিংও দেখাতে হবে।
বিশ্বকাপের শুরুতে কেপ ভার্দের লক্ষ্য ছিল সম্মানজনক লড়াই। এখন তারা শেষ ৩২-এ। সামনে মেসির আর্জেন্টিনা। রূপকথা থেকে মেসি, কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ যাত্রা এখন সত্যিকারের ইতিহাস।





