গণপিটুনিতে নিহত অন্তরের মরদেহ নিতে স্বজনদের অস্বীকৃতি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত ঘাতক অন্তর মজুমদারের (২৮) মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে গতকাল শুক্রবার বিকেলে তার দূর সম্পর্কের এক চাচাতো ভাইয়ের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াকুব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত অন্তর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানার চরভাটা এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অন্তরের মরদেহ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের মাধ্যমে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু পরিবারের কেউ লাশ নিতে রাজি হননি। পরে সুবর্ণচরের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় অন্তরের দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই টিটু মজুমদারকে লক্ষ্মীপুরে আনা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে তার কাছেই লাশটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
১০০ শয্যাবিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিহত অন্তরের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এরপর আমরা মরদেহ পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দিই।
এদিকে গণপিটুনিতে অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় রায়পুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে এই মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা নদীর পাড় এলাকার আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে ঢুকে শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার শিফাকে (৯) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন অন্তর মজুমদার। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ঘাতক অন্তরকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।






