logo

ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দরকার সবুজ পৃথিবী

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, সাতক্ষীরা
ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দরকার সবুজ পৃথিবী
কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনে অতিথিরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় পাঁচ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে এখন থেকেই সবাইকে গাছ লাগানোর আন্দোলনে সম্পৃক্ত হতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, পরিবেশ সংরক্ষণে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা এবং রোপণ করা গাছের পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।

শুক্রবার (২৯ মে) সকালে উপজেলার কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করে ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজ যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন হলো, এর সুফল সুদূরপ্রসারী। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে হলে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। শুধু সরকার নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বায়ুদূষণ বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মানবজীবনকে নিরাপদ রাখে।

বিশেষ অতিথি আক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’

তিনি বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্বও নিতে হবে। প্রতিটি পরিবার যদি বছরে অন্তত কয়েকটি গাছ লাগায়, তাহলে পরিবেশের বড় পরিবর্তন সম্ভব। তরুণ সমাজকে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে হবে।

ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড জাস্টিস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মামুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আমাদের সংগঠন শুধু বৃক্ষরোপণ করে না, জলবায়ু ন্যায্যতা ও পরিবেশ সচেতনতা নিয়েও কাজ করছে। আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম বলেন, কৃষি ও পরিবেশ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। গাছপালা কমে যাওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ বেশি করে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করবে। গাছ মানুষের বন্ধু; এটি মাটি রক্ষা করে, বৃষ্টিপাত বাড়াতে সহায়তা করে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট সিজিএম আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, পরিবেশ রক্ষা এখন শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতা নয়, এটি মানবতার জন্য অপরিহার্য দায়িত্ব। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী নানা সংকটের মুখোমুখি। তাই বৃক্ষরোপণের মতো ইতিবাচক উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করতে হবে।

তিনি বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে। তরুণদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করা গেলে আগামী দিনে একটি সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন। পরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ ফারুক হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা আতিকুজ্জামান রিপন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব তানজিদ আহমেদ শাওন, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ, বিআরডিবি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিত্যনান্দ পাল, আইনজীবী শিহাব মাসুদ সাচ্চু, শিক্ষক শাহাজাহান আলী শাহীন, যুবনেতা আব্দুল মজিদ, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, বাবলু, রিগ্যান, রাজস্ব কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বিগ্যান ও চিকিৎসক হাবিবুর রহমান হাবিব।