ঝড়ের কবলে লঞ্চ, আটকা পড়েছেন হাজারো যাত্রী

হঠাৎ কালবৈশাখীর কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঢাকা-চাঁদপুর নৌপথের যাত্রীরা। প্রবল ঝড় ও দমকা হাওয়ার তাণ্ডবে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নোঙর করা একাধিক লঞ্চ, পন্টুন ও জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় ঘাটে ভিড়তে গিয়ে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ঝড়ের কারণে কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘাটে ও লঞ্চে আটকা ছিলেন হাজারো যাত্রী। আতঙ্কে সময় পার করেছেন তারা।
সোমবার (২৫ মে) চাঁদপুর লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুরের পরে আকস্মিক কালবৈশাখী শুরু হলে চাঁদপুর লঞ্চঘাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল বাতাস ও উত্তাল নদীর মধ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো ঘাটে ভিড়তে গিয়ে বিপাকে পড়ে। এ সময় যাত্রীবাহী ‘ঈগল-৭’ ও ‘ময়ূর ২’ লঞ্চের যাত্রীরা ঝড়ের কবলে পড়েন। যাত্রীরা কান্নাকাটি শুরু করেন। অনেকেই নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন।
লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার বলেন, ঈগল-৭ লঞ্চটি হেলে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে ব্যাগ ও মালামাল ফেলে দ্রুত নামার চেষ্টা করেন। এতে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হলে নারী ও শিশুসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নদী বন্দরের ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই ঘাট এলাকায় দায়িত্বে থাকা নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও স্কাউট সদস্যরা উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আতঙ্কিত যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু সময়ের জন্য নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে যাত্রীদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ ও মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়।
বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, দুটি লঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঘাটে একটি জেটি, তিনটি পন্টুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্রুত এসব মেরামত করে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
