পরিবহনের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়ার চাপ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ার পর এবার সেই চাপ এসে পড়েছে নৌপথেও। ঢাকা–বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে বাড়ানো হয়েছে যাত্রীভাড়া। ডেকের ভাড়া ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৫০ টাকা। সিংগেল কেবিনে ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনে ৪০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বরিশালের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চেও যাত্রীপ্রতি ২০ টাকা করে ভাড়া বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন লঞ্চ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ফলে জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের প্রভাব পড়ছে নৌ যাতায়াতের খরচেও।
ঢাকা–বরিশাল নৌপথে নতুন ভাড়ায় ডেকের যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ৩৫০ টাকা। সিংগেল কেবিনের ভাড়া ১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া ২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টাকা।
এই পথে নিয়মিত যাতায়াত করা যাত্রীদের বড় একটি অংশ ডেকে চলাচল করেন। তাদের জন্য একবারের যাত্রায় বাড়তি ৫০ টাকা খরচ হচ্ছে। মাসে কয়েকবার যাতায়াত করলে এই বাড়তি ব্যয়ের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর পরিবার নিয়ে কেবিনে যাতায়াতকারীদের ক্ষেত্রে এক যাত্রাতেই বাড়তি কয়েক শ টাকা গুনতে হচ্ছে।
ঢাকায় চাকরি করেন বরিশালের এমন এক যাত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, আমি চাকরিজীবী মানুষ। পরিবার বরিশালে থাকে, আর আমি ঢাকায় চাকরি করি। প্রতি সপ্তাহে একবার করে বাড়িতে আসি। যেভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, তাতে মনে হয় না মাসে দুইবারের বেশি আসতে পারব। আমরা হিসাব করে টাকা খরচ করি। এভাবে ভাড়া বাড়ানো হলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হবে।
মেহেন্দিগঞ্জের যাত্রী জুয়েল বলেন, মেহেন্দিগঞ্জ ও ভোলার অনেক মানুষ চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে প্রতিদিন বরিশালে আসেন। আমাদের অনেকের জন্য নৌপথই প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। এমন সময়ে ভাড়া বাড়ানো আমাদের জন্য কষ্টকর। বিষয়টি সরকারকে দেখার দাবি জানান তিনি।
লঞ্চসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় নৌযান পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে শ্রমিকদের মজুরি, নৌযানের রক্ষণাবেক্ষণ, সার্ভে ও নিবন্ধন ফিসহ বিভিন্ন খরচ রয়েছে। এসব ব্যয় সমন্বয় করতেই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
ঢাকা–বরিশাল নৌপথের সুন্দরবন-১৬ লঞ্চের টিকিটের দায়িত্বে থাকা মনিরুজ্জামান খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, এত দিন তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া নিয়েছেন। যাত্রী আকর্ষণের জন্য মালিকেরা কম ভাড়ায় লঞ্চ চালিয়েছেন। এখন ডেকে ৫০ টাকা এবং কেবিনে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর পরও তা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় কম বলে দাবি করেন তিনি।
মনিরুজ্জামান খান আরও বলেন, এটুকু ভাড়া না বাড়ালে লঞ্চ চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে। তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে।
তবে ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনুমোদিত হার মানার কথা জানিয়েছে বরিশাল নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, অনুমোদিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট লঞ্চের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
