মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা/সরকারি সহায়তায় চলছে না জেলেদের সংসার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাঙামাটি
সরকারি সহায়তায় চলছে না জেলেদের সংসার
মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় জাল তুলে রেখেছেন জেলেরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রতি বছরের মতো এবারও চলছে মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা। তবে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন হ্রদনির্ভর হাজার হাজার মৎস্যজীবী। জেলেদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সরকারিভাবে পরিবারপ্রতি ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হলেও রাঙামাটির জেলেরা পাচ্ছেন মাত্র ২০ কেজি করে, যা বর্তমান বাজারে একেবারেই অপ্রতুল। এই বৈষম্য ও আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হ্রদপাড়ের জেলে পরিবারগুলোতে এখন চরম খাদ্য সংকট ও ঋণগ্রস্ততা তৈরি হয়েছে।

কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ২৭ হাজার জেলে। বছরের ৯ মাস হ্রদে মাছ ধরে সংসার চালালেও নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন তিন মাস তারা পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েন। বর্তমানে মৎস্যপল্লীগুলোতে জেলেদের চিরচেনা ব্যস্ততা নেই, ঘাটে বাঁধা রয়েছে নৌকা এবং পাড়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে জাল।

হ্রদপাড়ের পুরান জেলে পাড়ার বাসিন্দা সজল দাশ জানান, মাছ শিকার খোলা থাকার সময় কিছু টাকা জমিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও এই বন্ধের সময়ে তা দিয়ে সংসার চলে না। সপ্তাহে দুই দিনও স্ত্রী-সন্তানদের মুখে ভালো খাবার তুলে দেওয়া সম্ভব হয় না।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

হরিদাশ নামে আরেক জেলে বলেন, আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছয়জন। সরকার দুই মাসের জন্য মোট ৪০ কেজি চাল দিয়েছে। মাসে ২০ কেজি চাল দিয়ে ছয় জনের সংসার কীভাবে চলে? বাধ্য হয়ে সংসারের খরচ জোগাতে অনেকে লুকিয়ে মাছ শিকারে নামছে। মাসে অন্তত ৫০-৬০ কেজি করে চাল দিলে আমাদের আর এভাবে ঝুঁকি নিয়ে হ্রদে নামতে হতো না।

নতুন জেলে পাড়ার বাসিন্দা বাবুল দাশ বলেন, ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় তা পর্যাপ্ত নয়। দেশের অন্য এলাকায় ৪০ কেজি চাল দেওয়া হলেও রাঙামাটিতে ২০ কেজি দেওয়া স্পষ্ট বৈষম্য।

এদিকে পুরুষরা বেকার হয়ে পড়ায় পরিবারের হাল ধরতে নারীরাও বিকল্প কাজের সন্ধান করছেন। সঞ্জিতা দাশ নামের এক গৃহবধূ জানান, সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য তিনি এখন দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ টাকা মজুরিতে জাল সেলাইয়ের কাজ করছেন। অন্যদিকে সুমী দাশ জানান, দুই দিন ধরে পাহাড় থেকে শাক কুড়িয়ে ও স্বল্প বাজার করে কোনোমতে দিন পার করছেন এবং সংসার চালাতে এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার আবেদন করেছেন।

বাড়তি আয়ের জন্য জাল সেলাইয়ের কাজ করছেন গৃহবধূ। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বাড়তি আয়ের জন্য জাল সেলাইয়ের কাজ করছেন গৃহবধূ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাঙামাটি বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, জেলেদের যে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়, তা অবশ্যই অপ্রতুল। আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছি, কিন্তু বরাদ্দ বাড়েনি। আমি ও জেলা প্রশাসক মিলে চেষ্টা করছি, চলতি বছর সম্ভব না হলেও আগামী বছর থেকে রাঙামাটির জেলেরা যেন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো সমপরিমাণ সরকারি সুবিধা পান।

বিষয় :রাঙামাটি