মহাসড়কের ডিভাইডারে সবজি চাষে ভাগ্যবদল

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ​ফেনী
মহাসড়কের ডিভাইডারে সবজি চাষে ভাগ্যবদল
মহাসড়কের ডিভাইডারে সবজি চাষ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ফেনী অংশের সড়ক বিভাজক বা ডিভাইডারের পরিত্যক্ত খালি জায়গায় চাষ হচ্ছে হরেক রকমের শাক-সবজি। অভিনব চাষাবাদে একদিকে যেমন স্থানীয়দের তরতাজা সবজির চাহিদা মিটছে, অন্যদিকে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাচ্ছেন ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষকেরা।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের পর মোহাম্মদ আলী থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের আগে ধুমঘাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ২৭ দশমিক ৪০ কিলোমিটার সড়ক ফেনী জেলার আওতাভুক্ত। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার রামপুর, লালপুল, ছনুয়া, লেমুয়া, ফরহাদ নগর ও ফাজিলপুর এলাকার মহাসড়কের বিভাজকের মাঝখানে বড় বড় গাছের নিচের খালি জায়গায় স্থানীয় কৃষকরা বিভিন্ন জাতের সবজির চাষাবাদ শুরু করেছেন।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিভাইডারের মাটি অত্যন্ত উর্বর হওয়ায় ফলন চমৎকার হচ্ছে। এখানে মরিচ, ধনেপাতা, মুলা, পালং শাক, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, শিম, ঢ্যাঁড়স, কচুর লতি ও হলুদসহ বিভিন্ন জাতের বারোমাসি শাক-সবজি চাষ করছেন তারা।

ফেনী সদর উপজেলার রামপুরের ভূমিহীন কৃষক এমরান আলী জানান, ভিটে ছাড়া আমার আর কোনো চাষের জায়গা নেই। গত দুই বছর ধরে রাস্তার মাঝখানের খালি জায়গায় আমি সবজি চাষ করছি। এবার মুলা, পালং শাক, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া ও হলুদ লাগিয়েছি। এখানকার মাটি খুব উর্বর। নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আশপাশের মানুষের কাছে বিক্রি করে কিছু নগদ টাকা আয় হচ্ছে।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-পরিচালক মো. আতিক উল্লাহ বলেন, মহাসড়কের সড়ক বিভাজকের মাঝখানে সবজি চাষ নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কৃষকরা নিজ উদ্যোগে পতিত এসব জায়গায় সবজি চাষ করে নিজেদের চাহিদা মেটাচ্ছেন এবং বাজারে বিক্রি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন, এটি একটি ভালো দিক। কৃষকরা যাতে আরও ভালো ফলন পান, সেজন্য আমরা তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছি।

বিষয় :ফেনী