রাবিতে হল দখল নিয়ে ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাবি
রাবিতে হল দখল নিয়ে ছাত্রদল-শিবিরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা দৃশ্যমান হচ্ছে। উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে হল দখল ও সিট বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করছেন। এদিকে ক্যাম্পাসের অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাদের দাবি, পুরোনো কায়দাতেই হল দখলের রাজনীতিতে মেতেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।

ছাত্রশিবিরের দাবি, ছাত্রদল নতুন করে আবারও হল দখল, শিক্ষার্থীদের কাছে চাঁদাবাজি ও গেস্টরুম কালচার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। ছাত্রদলের পদধারী নেতারা অবৈধভাবে হলগুলোতে অবস্থান করছেন এবং এ কাজে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহযোগিতা করছে। অবৈধভাবে হল দখলের অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধনও করেছে শাখা ছাত্রশিবির।

এদিকে হল দখলের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, তারা কোনো ধরনের হল দখল বা শিক্ষার্থীদের হয়রানির সাথে জড়িত নন; বরং ছাত্রশিবিরই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। ১৭টি আবাসিক হলে আসনসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। ফলে প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনই আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পান না। এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সিট বরাদ্দ নীতিমালা অনুযায়ী—মেধাবী, অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসনের ১০ শতাংশ হল প্রাধ্যক্ষদের বিশেষ কোটায় সংরক্ষিত থাকে।

এদিকে চব্বিশের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্রলীগকে হল থেকে তাড়ানোর পর হলগুলো ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা দখলে নিয়েছেন বলে দাবি করে আসছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। তাদের দাবি, ৫ আগস্টের পরপরই ছাত্রলীগ-নিয়ন্ত্রিত ব্লকগুলোতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওঠানো হয়েছে এবং বৈষম্যবিরোধী কোটার নামে ছাত্রশিবির হলগুলো দখলে নিয়েছে।

বাম সংগঠনগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট’-এর মুখপাত্র ফুয়াদ রাতুল বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমরা স্বপ্ন দেখছিলাম শিক্ষার্থীদের মাঝে বৈধভাবে সিট বণ্টন হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, দীর্ঘ সময় হলের সিট বরাদ্দ আটকে রেখে একসময় দলীয় শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া হচ্ছে। কিছু হলে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক কক্ষ গড়ে উঠেছে। যে দল যেখানে শক্তিশালী, তারা সেখানে ভাগাভাগির মাধ্যমে হল দখল করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও দলীয় ছাত্রসংগঠনগুলো পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে এই জালিয়াতি করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতা মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, অতীতে ছাত্রলীগের সময়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে আবাসিক সিট বণ্টনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। বর্তমানেও আমরা সেই সংস্কৃতিরই পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও ভুক্তভোগীর পরিচয় ছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। শিবির বা অন্যান্য সংগঠনের কারা নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে অবস্থান করছেন, শিগগিরই আমরা সেসব তথ্য তুলে ধরব।

শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, এমন একটি ঘটনাও দেখানো যাবে না, যেখানে ছাত্রশিবিরের সুপারিশে কোনো শিক্ষার্থী হলে আবাসিকতা পেয়েছেন। আমাদের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করছেন, তারা যেন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, হলের প্রাধ্যক্ষরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক নীতিমালা অনুসারেই সিট বরাদ্দ দিচ্ছেন। তবে যেসব শিক্ষার্থী নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে হল প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।