‘সরকার আসে, সরকার যায়—কেউ কথা রাখেন না’

সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, রান্নাঘর, এমনকি কবরস্থানও পানিতে তলিয়ে যায়। বছরের পর বছর ধরে এমনই চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া গ্রামের অধিবাসীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ—জনপ্রতিনিধিরা বারবার আশ্বাস দিলেও সমস্যা সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
চলতি বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ। তিনি বলেন, সরকার আসে, সরকার যায়; চেয়ারম্যান-মেম্বার বদলায়। সবাই শুধু প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু কেউ কথা রাখেন না। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় চলা যায় না, বালতি দিয়ে পানি সেচে পথ বের করতে হয়। গত বছর তৎকালীন ইউএনও ড্রেন নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি বদলি হওয়ার পর সে উদ্যোগ আটকে যায়। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি চাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপাড়া গ্রামে পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসবাস। গ্রামটিতে ছয়টি কবরস্থান, চারটি মসজিদ, দুটি মাদ্রাসা ও চারটি গণশিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। বিগত প্রায় এক দশক ধরে বর্ষা এলেই ছয়টি কবরস্থানসহ অন্তত দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও যাতায়াতের পথ প্লাবিত হয়। ভুক্তভোগীরা একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের লিখিত ও মৌখিকভাবে জানালেও দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান পাননি।
গ্রামের বাসিন্দা মুক্তার আলী আফসোস করে বলেন, বৃষ্টির সময় কেউ মারা গেলে দাফন করতে গিয়ে চরম বিপদে পড়তে হয়, কবর খোঁড়াই সম্ভব হয় না। কিছুদিন আগে সিরাজ নামে একজন মারা গেলে তাকে দাফন করতে অনেক কষ্ট হয়েছে; এখনো তার কবরে পানি জমে আছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে—আমাদের মরে গিয়েও শান্তি নেই।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামের বেশিরভাগ পরিবার এখনো মাটির চুলায় রান্না করে। সিলিন্ডার গ্যাস কেনার সামর্থ্য অনেকেরই নেই। ফলে রান্নাঘর ডুবে গেলে অনেক পরিবারকে না খেয়ে অথবা শুকনা খাবার খেয়ে দিন কাটাতে হয়।
মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমান শেখ বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মসজিদের সামনের রাস্তা তলিয়ে যায়। এই নোংরা পানি পেরিয়ে মুসল্লিরা মসজিদে আসতে পারেন না। প্রতি বছর আমাদের একই কষ্ট সইতে হয়।
একই গ্রামের সিরাজুল ফকির, নাসির শিকদার, সৈয়দ আতিয়ার রহমান ও মজিবুর শেখ জানান, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পুরো এলাকা পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গৃহস্থালির চুলা বন্ধ থাকায় অনেকে বাধ্য হয়ে হোটেলে খাচ্ছেন, আবার অনেকে একবেলা শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, টুঙ্গিপাড়া তুলনামূলক নিচু এলাকা হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বিষয়টি জানার পর প্যানেল চেয়ারম্যানকে জরুরি ভিত্তিতে পানি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)





