Advertisement

ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি : এশিয়া পোস্ট

ঝিনাইদহে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের ইজিবাইক ছিনতাইয়ের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ ছিনতাই ও দস্যুতা চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি সেল থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশের যৌথ দল চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় লুণ্ঠিত ইজিবাইক, ছিনতাই হওয়া ৮টি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির নগদ ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো—চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকাশ সর্দার ওরফে ‘ডাকাত আকাশ’; কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারুল ওরফে জিয়া (৪৪), সিরাজুল ইসলাম (৪০), আখতার মোল্লা (৪০), রাশিদুল ইসলাম ওরফে বল্টু (৫০), লিটন আলী (৫০), সজীব শেখ (২৪), মাসুদ রানা (৩২), ইসলাম খান ওরফে তাহের (৬৫) এবং আশরাফুল ইসলাম (৪২)।

পুলিশ জানায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ১৪ বছর বয়সী ছেলে মিশকাত পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে একটি ইজিবাইক চালাত। গত ১৯ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে কোটচাঁদপুর রেলগেট এলাকা থেকে যাত্রীবেশে চার ব্যক্তি তার ইজিবাইকে ওঠে। পরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা মাঠসংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে তার মুখ, হাত ও পা বেঁধে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় মিশকাতের চাচা বাদী হয়ে গত ২১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা করেন (মামলা নম্বর-৩৭)। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

মামলাটির তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ প্রথমে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামাল কেনাবেচায় জড়িত আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও পাবনা জেলাজুড়ে তারা সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাই, ডাকাতি ও দস্যুতা করে আসছিল।

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিষয় :ঝিনাইদহ