গাইবান্ধায় সালিশ বৈঠকে মারধরে জাপা নেতার মৃত্যু

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে অনুষ্ঠিত একটি সালিশ বৈঠকে মারধরের শিকার হয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) এক নেতা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় দুই নারীসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত আব্দুর রাজ্জাক মিয়া (৪৫) উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামের মৃত খাইরুজ্জামানের ছেলে। তিনি তারাপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চাচিয়া মীরগঞ্জ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আছর উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী গোলেনুর বেগমের পূর্বের সংসারের ছেলে গোলজার রহমানকে জীবদ্দশায় ২২ শতক জমি দেন আছর উদ্দিন। পরে ওই জমির মালিকানা নিয়ে গোলজার রহমান ও আছর উদ্দিনের ছেলে আমজাদ হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। রোববার বিকেলে এই বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আবারও সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গোলজার রহমান ও আমজাদ হোসেনের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার সঙ্গে গোলজার রহমানের দুই ছেলের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে গোলজারের দুই ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যরা আব্দুর রাজ্জাককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করার প্রস্তুতির মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গোলজার হোসেন (৬৬), তার ছেলে লিটন মিয়া (২৭) ও রিপন মিয়া (১৮), মেয়ে রত্না আক্তার (৩১) এবং স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগমকে (৪৪) আটক করে।
নিহতের মা রোসনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সালিশ বৈঠকে চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতারা উপস্থিত থাকলেও হামলার সময় কেউ আমার ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তারাপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম মাস্টার বলেন, নিহত আব্দুর রাজ্জাক মিয়া ২ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই তাইয়ুব বলেন, পারিবারিক জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ এশিয়া পোস্টকে জানান, সালিশ বৈঠকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার পেলে মামলা রুজু করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।




