নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই ১০ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা

নীলফামারীর সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের দেওনাই নদীর ওপর নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকোই ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে পাকা সেতুর দাবি জানিয়ে আসলেও আজও বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ, কাচারী, শিশাতলী, জংলীপাড়া, দুবাছুরি, বল্লমপাঠ, কচুয়া ও দাঁড়িহারা গ্রামের পাশাপাশি জলঢাকা উপজেলার ডিয়াবাড়ী ও শিমুলবাড়ী গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেন। নীলফামারী জেলা শহর, ডোমার উপজেলা এবং জলঢাকা উপজেলায় যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের একমাত্র পথ এটি।
নদীর ওপর নির্মিত সাঁকোটি অত্যন্ত নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন সাইকেল বা মোটরসাইকেল ঠেলে এবং পায়ে হেঁটে মানুষকে এটি পার হতে হয়। সামান্য অসাবধানতায় ঘটছে দুর্ঘটনা।
বসুনিয়ারডাঙ্গা গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা ললীত রায় আক্ষেপের সুরে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এই সাঁকো দিয়েই চলাচল করছি। তখন থেকেই শুনে আসছি এখানে ব্রিজ (সেতু) হবে। কিন্তু আজও তা হয়নি। ভোটের সময় সবাই আশ্বাস দেয়, পরে আর কেউ খোঁজ নেয় না। এই সাঁকো দিয়েই আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যায়। তারা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। গত বছরের বন্যার সময় ছয় থেকে সাত জন সাঁকো ভেঙে নদীতে পড়ে গিয়েছিলেন। তখন মানুষ কলাগাছের ভেলা বানিয়ে নদী পার হয়েছিল।
একই গ্রামের ধীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, স্বাধীনতার পর ভারত থেকে ফিরে আসার পর থেকেই শুনছি এখানে ব্রিজ হবে। প্রতিবার নির্বাচনের সময় সেতুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, ভোট শেষ হলে আর কেউ কথা রাখে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের কাছেও বহুবার দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জীবন রায় ও চন্দ্রমোহন রায় বলেন, শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে পারাপার হওয়া গেলেও বর্ষায় নদীতে স্রোত বাড়লে ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কয়েকদিন আগেই সাঁকোটি ভেঙে পানিতে পড়ে গিয়েছিল। একটি পাকা সেতু হলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ঘুচত।
মোটরসাইকেল আরোহী ও বেসরকারি চাকরিজীবী বিপ্লব বলেন, প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় মোটরসাইকেল পার করাই সম্ভব হয় না। বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা; জরুরি সময়ে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই হবে না, এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক ও জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি একাধিকবার এলজিইডির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।
নীলফামারী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ কবির হোসেন বলেন, ওই স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমরা বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আশা করছি শিগগিরই ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।





