ব্রাজিল শিবিরেও পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ব্রাজিল শিবিরেও পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস
বাংলাদেশি ভক্তদের সেলিব্রেশন দেখেছেন ব্রুনো (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ব্রাজিলের সমর্থন নতুন কিছু নয়। বিশ্বকাপ এলেই দেশের অলিগলি, ছাদ, চায়ের দোকান আর বড় পর্দার সামনে হলুদ-সবুজ রঙের আলাদা এক আবহ তৈরি হয়। সেই উচ্ছ্বাস এবার পৌঁছে গেছে ব্রাজিল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কাছেও।

শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে নামার আগে বাংলাদেশি সমর্থকদের কথা বলেছেন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস। তিনি জানিয়েছেন, ব্রাজিল ও বাংলাদেশের সমর্থকদের উদ্‌যাপনের ভিডিও তারা পেয়েছেন, যা দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

ব্রুনো বলেছেন, ‘আমরা জানি জাতীয় দল মানুষের কাছে কতটা বড় ব্যাপার। ব্রাজিল ও বাংলাদেশের উদ্‌যাপনের কিছু ভিডিও আমরা পেয়েছি, যা আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দেয়। আমরা কয়েকজন খেলোয়াড় একসঙ্গে হয়ে তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে একটি ভিডিওও পাঠিয়েছি।’

ব্রাজিলের জার্সির সঙ্গে সমর্থকদের আবেগ কত গভীর, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার। নিজের শৈশবের বিশ্বকাপ স্মৃতিও টেনে এনেছেন তিনি।

ব্রুনোর ভাষায়, ‘ছোটবেলায় আমরা বন্ধু ও পরিবার নিয়ে একসঙ্গে হতাম, বারবিকিউ করতাম, জাতীয় দলকে সমর্থন করতাম। আমরা চাই সমর্থকদের মতোই এক থাকতে। আমরা ইতিহাস গড়তে চাই, ষষ্ঠ শিরোপা ঘরে আনতে চাই।’

ব্রাজিলের জন্য এবারের বিশ্বকাপ শুধু আরেকটি শিরোপা অভিযাত্রা নয়। ২০০২ সালের পর তারা বিশ্বকাপ জেতেনি। তাই ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন ঘিরে প্রত্যাশা যেমন বড়, চাপও তেমনি কম নয়। সেই চাপের মাঝেই বিশ্বের নানা প্রান্তের সমর্থকদের ভালোবাসা ব্রাজিল শিবিরে আলাদা প্রেরণা হয়ে আসছে।

বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য ব্রুনোর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থনের আবেগ বহুদিন ধরেই আলাদা আলোচনার বিষয়। এবার ব্রাজিলের খেলোয়াড়ের মুখেই সেই সমর্থনের স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশের ব্রাজিলভক্তদের উচ্ছ্বাস আরও বাড়তেই পারে।

মাঠের লড়াই অবশ্য সহজ হবে না। শেষ ষোলোয় ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে, যে দলের আক্রমণের সবচেয়ে বড় নাম আর্লিং হালান্ড। নরওয়ে কোচ স্তালে সলবাকেন বলেছেন, ব্রাজিল জয়ের দাবিদার হলেও তার দল নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে হালান্ডকে বল থেকে দূরে রাখা। ব্রুনোও একই কথাই বলেছেন। তাঁর মতে, হালান্ডকে থামানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তাঁর কাছে বল পৌঁছাতে না দেওয়া। কারণ এক বল পেলেই ম্যাচের সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার।

নরওয়ের শক্তি শুধু হালান্ডে সীমাবদ্ধ নয়। মার্টিন ওডেগার্ড মাঝমাঠে ছন্দ তৈরি করতে পারেন, আর সেট পিসেও নরওয়ে বড় হুমকি। ব্রুনো বলেছেন, কর্নার বা ফ্রি-কিক পেলেই নরওয়ে বক্সে বল পাঠিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে গোলের চেষ্টা করবে। তাই পুরো সপ্তাহ ধরেই সেই প্রস্তুতি নিয়েছে ব্রাজিল।

একাদশ নিয়েও আনচেলত্তির সামনে কিছু প্রশ্ন আছে। রাফিনিয়া চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরলেও শুরু থেকে খেলার মতো শতভাগ ফিট নন। তিনি বেঞ্চ থেকে নামতে পারেন। অন্যদিকে লুকাস পাকেতা হ্যামস্ট্রিং চোটে বাইরে থাকায় মাঝমাঠে নতুন ভারসাম্য খুঁজতে হবে ব্রাজিলকে।

এই জায়গাতেই ব্রুনোর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। চলতি বিশ্বকাপে তিনি ব্রাজিলের অন্যতম সেরা পারফর্মার। জাপানের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে তাঁর অবদান ছিল। টুর্নামেন্টে সেটি ছিল তাঁর চতুর্থ গোলে সহায়তা।

নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিল জিতলে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের সামনে থাকবে ইংল্যান্ড বা মেক্সিকো। তবে তার আগে ব্রাজিলের লক্ষ্য পরিষ্কার, হালান্ড-ওডেগার্ডদের থামিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করা। আর সেই অভিযানে বাংলাদেশের ব্রাজিলভক্তদের আবেগও যেন দূর নিউ জার্সির ব্রাজিল শিবিরে একটু বাড়তি শক্তি হয়ে পৌঁছে গেছে।