গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসিকে ছুঁয়ে শীর্ষে এমবাপ্পে

বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের লড়াই নতুন নয়। ২০২২ সালের ফাইনালেই দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা ফুটবলকে এক অবিশ্বাস্য রাত উপহার দিয়েছিলেন। চার বছর পর সেই লড়াই আবার ফিরেছে, এবার সরাসরি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন এমবাপ্পে। সেই গোলেই এবারের বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭। এতদিন এককভাবে শীর্ষে থাকা মেসির পাশে এখন ফরাসি ফরোয়ার্ডও। তবে গোল সমান হলেও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আপাতত এগিয়ে এমবাপ্পে, কারণ তার আছে ২টি গোলে অ্যাসিস্ট। মেসির চলতি বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট এখনো নেই।
গোল্ডেন বুটের নিয়মে গোলসংখ্যা সমান হলে আগে দেখা হয় গোলে সহায়তা। সেখানেও সমতা থাকলে বিবেচনায় আসে কে কম মিনিট খেলেছেন। এই হিসাবেই ৭ গোল করে মেসির সঙ্গে সমতায় থেকেও তালিকার শীর্ষে এমবাপ্পে।
মেসির জন্য অবশ্য লড়াই এখনো শেষ হয়নি, বরং বলা যায় আরও জমে উঠেছে। আর্জেন্টিনার সামনে এখন শেষ ষোলোয় মিশর পরীক্ষা। তাই গোল বাড়ানোর সুযোগ আছে তার সামনে। অন্যদিকে ফ্রান্স ইতোমধ্যেই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে, যেখানে এমবাপ্পেদের সামনে মরক্কো। দল যত দূর এগোবে, গোল্ডেন বুটের দৌড়ও তত বদলাবে।
এমবাপ্পের সামনে আরেকটি ইতিহাসও হাতছানি দিচ্ছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনি। এবারও যদি শেষ পর্যন্ত শীর্ষ গোলদাতা হন, তাহলে বিশ্বকাপে দুবার গোল্ডেন বুট জেতার বিরল কীর্তি গড়বেন ফরাসি অধিনায়ক।
তবে দৌড়টা শুধু মেসি-এমবাপ্পেতে আটকে নেই। নরওয়ের আর্লিং হালান্ড ও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ৫ গোল করে খুব কাছেই আছেন। ৪ গোল করে পেছন থেকে চাপ বাড়াচ্ছেন ওসমান দেম্বেলে, মিকেল ওয়ারসাবাল, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইসমাইলা সাররা। নকআউট পর্বে একটি বড় ম্যাচ, একটি হ্যাটট্রিক বা এক জোড়া গোলই পুরো তালিকা পাল্টে দিতে পারে।
তবু এই মুহূর্তে আলোটা সবচেয়ে বেশি পড়ে আছে দুই নামের ওপর। মেসি, যিনি নিজের শেষ বিশ্বকাপের গল্প আরও রঙিন করতে চান। আর এমবাপ্পে, যিনি নিজের যুগকে আরও স্পষ্ট করে ঘোষণা করতে চান।
গোল্ডেন বুটের দৌড় তাই শুধু সংখ্যার হিসাব নয়। এটি এক প্রজন্মের শেষ আলো আর আরেক প্রজন্মের পূর্ণ উত্থানের গল্পও।
- কিলিয়ান এমবাপ্পে, ফ্রান্স: ৭ গোল, ২ গোলে সহায়তা
- লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনা: ৭ গোল
- আর্লিং হলান্ড, নরওয়ে: ৫ গোল
- হ্যারি কেইন, ইংল্যান্ড: ৫ গোল
- ওসমান দেম্বেলে, ফ্রান্স: ৪ গোল
- মিকেল ওয়ারসাবাল, স্পেন: ৪ গোল
- ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ব্রাজিল: ৪ গোল
- ইসমাইলা সার, সেনেগাল: ৪ গোল




