শহীদ খামেনির রক্ত পবিত্র কুদসের মুক্তির পথ সুগম করবে: গালিবাফ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
শহীদ খামেনির রক্ত পবিত্র কুদসের মুক্তির পথ সুগম করবে: গালিবাফ
বাংলাদেশের পার্লামেন্টের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বামে) ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ও একতরফা নীতির বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত যে, (ইসলামী) বিপ্লবের শহীদ নেতা (আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি) ও অন্যান্য শহীদদের রক্ত পবিত্র কুদসের মুক্তির পথ সুগম করবে এবং ভবিষ্যত প্রতিরোধ শক্তিরই হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায়ের অংশ নিতে ইরান সফর করছেন বাংলাদেশের স্পিকার বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেসটিভি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়া বাঘের কালিবাফ দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে। ইরান কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি। বরং হামলার শিকার হওয়ার সময়ও তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমরা তখনও আলোচনা করছিলাম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে আলোচনার টেবিলেই বোমা ফেলেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের শীর্ষ আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী গালিবাফ বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও অসম যুদ্ধকৌশল প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দিয়েছে এবং তাদের অপরাজেয়তার ধারণা ভেঙে দিয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে যে কোনো আগ্রাসনের জবাবে দেশটি সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

এ সময় মার্কিন আগ্রাসন ও একতরফা নীতির বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত যে, (ইসলামী) বিপ্লবের শহীদ নেতা (আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি) ও অন্যান্য শহীদদের রক্ত পবিত্র কুদসের মুক্তির পথ সুগম করবে এবং ভবিষ্যত প্রতিরোধ শক্তিরই হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, বৈশ্বিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা ইরানের অন্যতম প্রধান নীতি। ইরান সবসময় ইসলামী উম্মাহর স্বার্থ রক্ষায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।

প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ‘প্রজ্ঞাবান নেতা, মহান সেনাপতি ও প্রতিরোধের শিক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করে গালিবাফ বলেন, নতুন নেতার নেতৃত্বে ইরান একই পথে এগিয়ে যাবে এবং দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রস্তুত থাকবে।

ইরানের সরকারি বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তেহরানের দাবি, ওই হামলায় বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিক নিহত হন। এর জবাবে ইরান অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায়। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ৭ এপ্রিল একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির মৃত্যু শুধু ইরানের নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্যই একটি বড় ক্ষতি। বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরানের ভূমিকা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সংসদীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন তিনি।