আলী খামেনির জানাজায় ইমামতির তালিকা প্রকাশ, নাম নেই ছেলে মোজতবার

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
আলী খামেনির জানাজায় ইমামতির তালিকা প্রকাশ, নাম নেই ছেলে মোজতবার
রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসল্লায় রাখা আলী খামেনির মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ইরানের নেতৃত্বরা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সপ্তাহব্যাপী শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছে। প্রক্রিয়ার প্রথম দিনে বিদেশি কূটনীতিক, রাজনীতিক ও বিশিষ্টজনেরা তার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।

এর পরদিন শনিবার (৪ জুলাই) ইরানের সাধারণ জনগণের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য তার মরদেহ উন্মুক্ত রাখা হয়। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসল্লা চত্বরে আলী খামেনির কফিনের পাশাপাশি তার শিশু নাতনিসহ নিহত অন্যান্য স্বজনদের কফিনও রাখা হয়েছিল।

আজ শনিবার সাবেক নেতার প্রতি সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানালেও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। দুদিন মূলত শিয়া সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল তার মরদেহ।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল (৫ জুলাই) সকালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় ইমাম খোমেনি মোসল্লায় এই জানাজার নামাজ শুরু হবে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেসটিভি জানিয়েছে।

ইতোমধ্যেই প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জানাজার নামাজে ইমামতি করার তালিকা প্রকাশ করেছে ইরান। তবে সেই তালিকায় নাম নেই আলী খামেনির ছেলে ও ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, বাবার জানাজায় ইমামতি করছেন না তিনি।

শিয়া মতাদর্শ ও রীতি অনুযায়ী, সাবেক সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় বর্তমান সবোর্চ্চ নেতার ইমামতি করার রেওয়াজ রয়েছে। মোজতবা খামেনি তালিকায় না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

প্রকাশিত তালিকা অনুসারে, রোববার শেষবিদায়ের তৃতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতায় রাজধানী তেহরানে প্রথম জানাজার নামাজে ইমামতি করবেন জাফর সোবহানি। এরপর পবিত্র নগরী কোমে অনুষ্ঠিতব্য জানাজায় ইমামতি করবেন নাসের মাকারেম শিরাজি। আর সবশেষ মাশহাদ শহরে অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজে ইমামতি করবেন হোসেইন নুরি হামেদানি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

এ সময় তার বড় মেয়ে, জামাতা, ১৪ মাস বয়সি নাতনি এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রীও প্রাণ হারান। এ ছাড়াও ওই হামলায় প্রাণ হারান দেশটির আইআরজিসির বিভিন্ন শীর্ষ কর্মকর্তারা। হামলার ঘটনায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে পুরো অঞ্চলজুড়ে।