এইচএসবিসির বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘন ও কর্মী বঞ্চনার অভিযোগ, ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি

এইচএসবিসি বাংলাদেশের রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের ফলে চাকরি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা ব্যাংকটির বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিভ্রান্ত করা এবং কর্মীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শনিবার রাজধানী পল্টনে ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এইচএসবিসির বঞ্চিত কর্মকর্তা বৃন্দের পক্ষে আলমগীর কবির। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, মনজুর মোরশেদ, সুবক্ত গিন মাহমুদ, আবু রায়হান এবং এইচএসবিসির বঞ্চিত কর্মকর্তা বৃন্দের আইনজীবী মোকাররাম হোসেন সাকলাইন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ রিটেইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের নামে ২৫৭ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হলেও শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাই (Retrenchment) সংক্রান্ত বিধান অনুসরণ করা হয়নি। বক্তারা দাবি করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘Retrenched Officials’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও কর্মীদের হাতে সাধারণ চাকরিচ্যুতির (Termination) চিঠি দিয়ে ছাঁটাইসংক্রান্ত আইনগত সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, এইচএসবিসি বাংলাদেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেনি এবং শ্রম আইনের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে অর্থ কর্তন, ঋণ সমন্বয়ের প্রক্রিয়া, পুনর্নিয়োগে বৈষম্য, হোম লোনের সুদের হার বৃদ্ধি এবং রিলিজ লেটার আটকে রাখাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
বক্তারা দাবি করেন, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় একই ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রমে কর্মীদের তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হলেও বাংলাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডাইফি) প্রতি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সম্পূর্ণ ছাঁটাই প্রক্রিয়া আইনগতভাবে পর্যালোচনা করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যায্য সেভারেন্স ও অন্যান্য প্রাপ্য পরিশোধ এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য পাওনা থেকে কেটে নেওয়া অর্থ সুদ ও জরিমানাসহ ফেরত প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে বক্তারা গণমাধ্যমের প্রতি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।





