গাজীপুরে কৃষকলীগ নেতাকে আটকের পর টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, গাজীপুর
গাজীপুরে কৃষকলীগ নেতাকে আটকের পর টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী প্রতাপপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগের এক নেতাকে আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানির পর স্থানীয় বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন—গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান।

সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে এসআই কামরুলসহ তিন থেকে চারজন পুলিশ সদস্য কোনাবাড়ী থানাধীন প্রতাপপুর এলাকায় অভিযান চালান। অভিযানে ১০ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকলীগের সভাপতি মতিন মিয়াকে আটক করা হয়। এ সময় কৃষকলীগ নেতা মতিন মিয়ার পরিবারের সদস্যরা এসআই কামরুলকে দুই লাখ টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশের পরামর্শে পরদিন ২৩ জুন সকালে মতিন মিয়া আত্মগোপনে চলে যান।

এদিকে পুলিশকে বাড়ি দেখিয়ে দেওয়ার অভিযোগে কৃষক লীগ নেতার পরিবার স্থানীয় মুদিদোকানি নূর মোহাম্মকে হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে কোনাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই মুদি দোকানি।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন রাতে প্রতাপপুর এলাকায় নূর মোহাম্মদ নিজের দোকানে বসে ছিলেন। এমন সময় কোনাবাড়ী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার দোকানে এসে মতিনের বাড়ি কোন দিকে তা জানতে চান। নূর মোহাম্মদ বাড়িটি দেখিয়ে দিলে ওই রাতেই পুলিশ মতিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরে নিয়ে যায়। এর পরের দিন আটক কৃষকলীগ নেতার ভাই মো. আলম দোকানে গিয়ে নূর মোহাম্মদকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন।

মুদি দোকানি নূর মোহাম্মদ বলেন, আমি গরিব মানুষ, দোকান চালিয়ে জীবন ধারণ করি। পুলিশ এসে কৃষকলীগ নেতার বাড়ি কোনদিকে জানতে চাইলে আমি শুধু রাস্তা দেখিয়ে দেই। এরপর পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে রাতেই শুনেছি, দুই লাখ টাকা নিয়ে পুলিশ তাকে আবার ছেড়েও দিয়েছে। এখন আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই কামরুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে পরে কথা বলবো। এই বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

কোনাবাড়ী মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার আহমেদ বলেন, ওই নেতাকে আটক এবং পরবর্তীতে ব্যবসায়ীর অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় :গাজীপুর