কোথায় আছেন মোজতবা খামেনি?

শেষ বিদায়ের জন্য প্রস্তুত বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ। দাফন করার বাকি মাত্র চারদিন। কিন্তু দেখা নেই ছেলে দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনির। বাবার জানাজা ও দাফনে তার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ, তিনিই ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা আলী খামেনি নিহতের পর হাজার বছরের ইতিহাসে সমৃদ্ধ দেশটির দায়িত্ব কাঁধে নেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার পর সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন হন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। এরপর তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি হয় যে, ওই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাকে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল বলেও গুঞ্জন রটে। যদিও এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাবার এই অন্তিম যাত্রায় পাশে নেই ছেলে মোজতবা খামেনি। তাই প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় আছেন তিনি। এ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও তিনি জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার অপূরণীয় ক্ষতির মধ্যে নতুন করে হামলায় ক্ষতি মানতে এই মুহূর্তে প্রস্তুত নয় ইরান। তাই বর্তমান নেতা পর্দার আড়ালেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির চলমান ছয় দিনব্যাপী শেষ বিদায়ের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন না ৫৬ বছর বয়সি নতুন সর্বোচ্চ নেতা। তাকে হত্যা করার জন্য ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তবে তিনি ঠিক কোথায় আছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে মার্কিন-ইসরায়েলের হামলায় তার বাবা, বোন, স্ত্রী, ভগ্নিপতি ও ১৪ মাস বয়সি ভাগনি নিহত হন। ওই হামলায় আহত হয়েছিলেন মোজতবা খামেনি। জনসমক্ষে দেখা না গেলেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার নামে একাধিক বিবৃতি প্রচার করা হয়েছে।
গত ১৮ জুন ইরানি জাতির উদ্দেশে এক লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তারা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) সমঝোতা স্মারকটি ইরানি জনগণ ও ‘প্রতিরোধ ফ্রন্টের’ অধিকার রক্ষা করবে। এ কারণে ব্যক্তিগতভাবে ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও তিনি ইরান ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে অনুমোদন দিয়েছেন।
এরপর ২৮ জুন আরেকটি লিখিত বার্তায় খামেনি তার বাবার হত্যাকাণ্ডসহ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে তাদের অপরাধের জন্য শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।’
সূত্র: আলজাজিরা




