এমবাপ্পের পেনাল্টিতে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
এমবাপ্পের পেনাল্টিতে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স
কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: সংগৃহীত

প্যারাগুয়ের রক্ষণ, ফিলাডেলফিয়ার গরম, গোলরক্ষক অরলান্ডো গিলের সেভ, সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ফ্রান্স। শেষ ষোলোর ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে দিদিয়ে দেশমের দল।

ফিলাডেলফিয়ায় ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলে আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের। কিন্তু প্যারাগুয়ের পরিকল্পনা ছিল পরিষ্কার। নিজেদের অর্ধে সংগঠিত থেকে জায়গা বন্ধ রাখা, ফ্রান্সের গতি থামানো এবং সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ওঠা। প্রথমার্ধে সেই পরিকল্পনা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগায় গুস্তাভো আলফারোর দল।

মাইকেল ওলিস, ওসমান দেম্বেলে, ব্র্যাডলি বারকোলা ও এমবাপ্পে বারবার জায়গা খুঁজেছেন। কিন্তু প্যারাগুয়ের রক্ষণ খুব সহজে ভাঙেনি। ৩৫ মিনিটে বক্সের ভিড়ের মধ্যে বল গোলের দিকে এগোলেও আন্দ্রেস কুবাস গোললাইন থেকে বিপদ কাটান। প্রথমার্ধে ফ্রান্সের বল দখল ছিল প্রায় একচেটিয়া, তবু পরিষ্কার সুযোগ খুব বেশি ছিল না।

বিরতির পর ফ্রান্স চাপ বাড়ায়। ৫২ মিনিটে এমবাপ্পে ও দেম্বেলের জোড়া সুযোগও কাজে লাগেনি। কিছুক্ষণ পর মানু কোনের শট দুর্দান্ত সেভে ঠেকান গিল। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক বারবার ফ্রান্সকে হতাশ করে যাচ্ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের দরজা খুলে যায় ৬৭ মিনিটে। প্যারাগুয়ের বক্সে দেজিরে দুয়ে পড়ে গেলে প্রথমে খেলা চলতে দেন রেফারি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পরীক্ষায় পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। ৬৯ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করেন এমবাপ্পে। গিলকে ভুল দিকে পাঠিয়ে বল জালে জড়ান ফ্রান্স অধিনায়ক।

গোলের পরও ম্যাচ সহজ হয়নি ফ্রান্সের জন্য। প্যারাগুয়ে লড়াই ছাড়েনি। গরমে ক্লান্তি বাড়ছিল, দুই দলের মধ্যে শারীরিক লড়াইও তীব্র হচ্ছিল। পানি বিরতির সময় এমবাপ্পে ও গুস্তাভো ভেলাসকেসকে ঘিরে উত্তেজনাও তৈরি হয়।

শেষ দিকে প্যারাগুয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। মাতিয়াস গালারসার নিচু শট ঠেকিয়ে ফ্রান্সকে বাঁচান মাইক মেনিওঁ। অন্যদিকে ৯৬ মিনিটে এমবাপ্পের শক্তিশালী শট অবিশ্বাস্য সেভে ঠেকান গিল। ১০ মিনিট যোগ করা সময়েও প্যারাগুয়ে চাপ রাখে, কিন্তু সমতা ফেরাতে পারেনি।

শেষ বাঁশিতে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। স্কোরলাইন ছোট, কিন্তু এই জয় সহজ ছিল না। প্যারাগুয়ে মাত্র ২৪ শতাংশের মতো বল দখল রেখেও ম্যাচকে শেষ মিনিট পর্যন্ত জীবন্ত রেখেছিল। অন্যদিকে ৭৬ শতাংশ বল দখল ও ১১ শট নিয়েও ফ্রান্সকে জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে এমবাপ্পের পেনাল্টির ওপর।

এই গোলের সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৭। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি এখন লিওনেল মেসির সমান। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল করা ফরাসি তারকা ২০২৬ আসরেও বড় মঞ্চে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন।

প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ শেষ হলেও মাথা উঁচু করেই বিদায় নিল তারা। জার্মানিকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠা দলটি ফ্রান্সকেও সহজে এগোতে দেয়নি। গিলের সেভ, রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই, সব মিলিয়ে আলফারোর দল বিশ্বকাপে নিজেদের ছাপ রেখে গেল।

ফ্রান্সের সামনে এবার মরক্কো। কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আগে থেকেই কোয়ার্টার ফাইনালে অপেক্ষা করছে আটলাস লায়নরা। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পর এবার শেষ আটে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো।