‘হাত ময়লা করতেও জানি’, প্যারাগুয়েকে এমবাপ্পের জবাব

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়টা ফ্রান্সের জন্য সহজ ছিল না। স্কোরলাইন ১-০, ম্যাচের বড় সময়জুড়ে অস্বস্তি, রুক্ষ লড়াই, বারবার ধাক্কা আর চাপা উত্তেজনা। তবে শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলেই শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের পর সেই কঠিন লড়াই নিয়েই প্যারাগুয়েকে জবাব দিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।
শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ে শুরু থেকেই ফ্রান্সকে স্বস্তিতে খেলতে দেয়নি। নিচে নেমে রক্ষণ, শারীরিক চ্যালেঞ্জ, ট্যাকল আর উসকানিমূলক আচরণে ম্যাচটা বারবার থেমেছে। এমবাপ্পেকেও মাঠে বেশ কয়েকবার কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে ম্যাচ শেষে ফরাসি তারকা জানালেন, এমন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতই ছিলেন তারা।
এমবাপ্পে বলেছেন, ‘হাত ময়লা করতে হলে সেটাও আমরা জানি। রুক্ষ ফুটবল খেলতেও জানি।’
এরপরই প্যারাগুয়ের কৌশল নিয়ে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওরা ভেবেছিল আমরা টাক্সেডো পরে আসব, কিন্তু আমরাও লড়াই করতে এসেছিলাম। এমন ম্যাচেও আমরা ওদের চেয়ে ভালো ছিলাম।’
ফ্রান্সের জয়ের একমাত্র গোলটি আসে দ্বিতীয়ার্ধে। ৬৭ মিনিটে বক্সে দেজিরে দুয়ে পড়ে গেলে প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে দেন রেফারি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পরীক্ষার পর পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। ৬৯ মিনিটে স্পটকিক থেকে গোল করেন এমবাপ্পে।
এই গোলেই এবারের বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসির সমতায় উঠেছেন তিনি। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা এখন ১৯, মেসির ২০ গোল থেকে এক পেছনে।
তবে গোলের পরও ম্যাচের উত্তেজনা কমেনি। পানি বিরতির সময় এমবাপ্পে ও গুস্তাভো ভেলাসকেসকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। শেষ দিকেও প্যারাগুয়ে ম্যাচকে শারীরিক লড়াইয়ে টেনে রাখে। ৯০ মিনিটে মাতিয়াস গালারসার নিচু শট ঠেকিয়ে ফ্রান্সকে বাঁচান মাইক মেনিওঁ। অন্যদিকে যোগ করা সময়ে এমবাপ্পের দুটি চেষ্টাই ঠেকান অরলান্ডো গিল।
ফ্রান্স অবশ্য এই জয় থেকে স্বস্তি যেমন পাবে, তেমনি সতর্কবার্তাও পাবে। গ্রুপ পর্ব ও আগের নকআউট ম্যাচের মতো আক্রমণে ঝড় তুলতে পারেনি দিদিয়ে দেশমের দল। প্যারাগুয়ের ঘন রক্ষণ ভাঙতে তাদের অনেক সময় লেগেছে। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত দক্ষতা, ধৈর্য আর বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।
ফ্রান্সের সামনে এবার মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পর আবার বিশ্বকাপের নকআউটে মুখোমুখি হবে দুই দল। প্যারাগুয়ের রুক্ষতা সামলে ফ্রান্স এগিয়েছে, কিন্তু মরক্কোর পরীক্ষা হবে ভিন্ন। তারা শুধু লড়াকু নয়, ফর্মে থাকা, সংগঠিত এবং আত্মবিশ্বাসী এক দল।
প্যারাগুয়ের ম্যাচ শেষে এমবাপ্পের কথাতেও যেন সেই বার্তাই ছিল। সুন্দর ফুটবল খেলতে জানে ফ্রান্স, কিন্তু দরকার হলে কঠিন, অস্বস্তিকর এবং রুক্ষ ম্যাচও জিততে জানে তারা।




