নড়াইল জেলা কারাগারে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

নড়াইল জেলা কারাগারে লাইচ বেগম ওরফে লাইচনা নামে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এক নারী কয়েদি মারা গেছেন।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল জেলা কারাগারের জেল সুপার সাইফুল ইসলাম। তিনি এশিয়া পোস্টকে জানান, লাইচ বেগম লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের বাহার উদ্দিনের স্ত্রী। হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি যাবজ্জীবন (৩০ বছর) সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের মুসা খন্দকার প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই লোহাগড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
২০২৫ সালের ১৪ মে নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক এলিনা আক্তার ওই মামলার রায়ে লাইচ বেগম ওরফে লাইচনা, তার দেবর আকরাম মোল্যা এবং জাফর খন্দকারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই লাইচ বেগম নড়াইল জেলা কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এসব রোগের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ চলছিল। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। পরে আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।
রোববার দুপুরে কারাগারের ভেতর হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইল জেলা কারাগারে জেল সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।





