logo

শহীদ আবু সাঈদের ঘরবাড়ি-কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দিল সরকার

শহীদ আবু সাঈদের ঘরবাড়ি-কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা দিল সরকার
শহীদ আবু সাঈদের কবরস্থানের পাশে দাঁড়িয়ে পরিবারের সদস্যরা। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে। সম্প্রতি তোলা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুরে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ঘরবাড়ি, কবরস্থান ও ফাউন্ডেশন উন্নয়নে সরকার ঘোষিত এক কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ঘোষণার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় সোমবার (৫ অক্টোবর) এ অর্থ অবমুক্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এদিন দুপুরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব স্বাক্ষরিত অর্থ অবমুক্তির চিঠি রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অর্থ ছাড়পত্রটি চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অর্থ অবমুক্তির চিঠি অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ‘জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের ‘বিশেষ বরাদ্দ’ উপখাত থেকে রংপুর জেলা পরিষদের অনুকূলে মোট ১০৯ লাখ টাকা বা এক কোটি নয় লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে।

এর মধ্যে শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের ঘরবাড়ি ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা, পীরগঞ্জ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের সাইকেল সরবরাহে পাঁচ লাখ টাকা এবং পীরগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও পীরগঞ্জ কছিমন নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ছাড়পত্রে বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে জেলা পরিষদের এডিপি বরাদ্দ ব্যবহার নির্দেশিকা-২০২২সহ প্রচলিত আর্থিক ও প্রশাসনিক বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে অর্থ ব্যয় করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আবু সাঈদের বাড়িঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে এক কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে প্রয়োজন হলে আরও অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।

ঘোষণার পাঁচ দিনের মধ্যে অর্থ ছাড় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে আবু সাঈদের পরিবার। আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন, আমরা চাই সরকার শহীদ আবু সাঈদের একটি স্মৃতি সংরক্ষণাগার করুক। যাতে মানুষ এখানে এসে তার বীরত্বগাথা ইতিহাস জানতে পারে। নতুন প্রজন্ম এখান থেকে প্রেরণা নিতে পারে। সরকার এক কোটি টাকা দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা খুশি।

শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, প্রতিমন্ত্রী এসে ফাউন্ডেশন, ঘরবাড়ি ও কবরস্থানের জন্য এক কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। আজ শুনলাম, সেই টাকা সরকার জেলা পরিষদকে দিয়েছে। এতে আমরা খুশি। আমরা চাই, এটা সঠিকভাবে ব্যয় হোক।

আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, দেরিতে হলেও বাড়িঘর ও কবরস্থানের উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং দ্রুত টাকা ছাড় দেওয়ায় আমরা খুশি। আমি চাই, সরকার অন্যান্য শহীদ পরিবারের পাশেও দাঁড়াক।

রংপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, অর্থ ছাড় হয়েছে। এখন একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি ডিজাইন ও প্রাক্কলন তৈরি করবে। আমরা চাই, জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের ঘরবাড়ি, কবরস্থান ও ফাউন্ডেশনকে একটি ঐতিহাসিক মনুমেন্ট হিসেবে গড়ে তুলতে।

রংপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ঘোষণা দিয়েছিলেন। পাঁচ দিনের মাথায় অর্থ ছাড় হয়েছে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদকে এই সরকার কতটা গুরুত্ব দেয়। আমরা চাই, শহীদ আবু সাঈদকে ঘিরে সেখানে সর্বজনের মিলনমেলা বসার মতো পরিবেশ তৈরি হোক। সেখানে আবু সাঈদকে নিয়ে চর্চা হবে। এর মাধ্যমে তিনি যুগের পর যুগ মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন।