নিজ দলের হলেও মাদক-সন্ত্রাসে জড়িত কাউকে ছাড় নয়: এমপি সেলিম রেজা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, পাবনা
নিজ দলের হলেও মাদক-সন্ত্রাসে জড়িত কাউকে ছাড় নয়: এমপি সেলিম রেজা
পাবনার সুজানগর বাজারে নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য দেন এমপি সেলিম রেজা হাবিব। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নিজ দলের নেতাকর্মী হলেও মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। একইসঙ্গে অপরাধীদের দমনে এলাকায় অভিযোগ বাক্স ও হটলাইন নম্বর চালুর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে পাবনার সুজানগর বাজারে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ প্রতিরোধে সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

এমপি সেলিম রেজা হাবিব বলেন, আমার এলাকায় মাদকসেবী, বিক্রেতা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলবাজদের ঠাঁই হবে না। এসব নির্মুলে দুটি অভিযোগ বক্স থাকবে। অভিযোগ ধরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হটলাইন নাম্বার দেওয়া হবে। আমার সঙ্গে যারা রাজনীতি করেন তাদের কেউ যদি এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাদের জায়গা আমার কাছে হবে না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার মাদক নির্মূলে কাজ শুরু করেছে। নিজেদের নীতি-নৈতিকতার পরিবর্তন না হলে সমাজের অসংগতি দূর করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, নির্বাচনি এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে মাদক বা চাঁদাবাজির অভিযোগের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তাদের এই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। অপরাধীদের আলাদা তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং সেই তালিকা ধরে প্রশাসনের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের মধ্যে যারা বিরোধপূর্ণ মনোভাব নিয়ে ঘাপটি মেরে আছেন, তাদের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। রাজনৈতিকভাবে আমাদের কোনো প্রতিহিংসা নেই এবং কেউ যেন প্রতিহিংসার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো নেতাকর্মীর কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে, তার দল করার অধিকার থাকবে না, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

নাগরিক সমাবেশের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন প্রয়োগ করতে গেলে রাজনৈতিক পর্যায়ে ঐকমত্য থাকতে হয়। কিন্তু মাদক নির্মূলে এই সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করে। মানুষের গণজোয়ার থাকলে খুব দ্রুত মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের নির্মূল করা সম্ভব। আমাদের সবাইকে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, পাবনায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি চলছে। গত দুই মাসে সহস্রাধিক মাদকসেবী ও বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করে সংক্ষিপ্ত বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। মাদক ও জুয়ায় তাৎক্ষণিক সাজা নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের সুশাসনে রাখার আহ্বান জানান।

সমাবেশের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) পাবনার উপপরিচালক তৌফিক ইকবাল, জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মাহবুবুর রহমান সরকার, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শহিদুল মান্নাফ কবির, বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোনাল্ড চাকমা এবং পাবনা ও সুজানগর উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বিষয় :পাবনা